ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং যাচাইয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং যাচাইয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্য ভুল স্বীকার না করলে প্রমাণ হবেÑ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত থেকে জনগণের রায় পাল্টে দেওয়ার দায়ে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে গতকাল শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তারা ভেবেছে তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং জনগণ বুঝতে পারবে না। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তারা নিজেরাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা স্বীকার করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান মিডিয়ার সামনে স্বীকার করেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি। সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্নে রিজওয়ানা হাসান বলেন, তারা সংসদে বিরোধী দলে থাকলেও তাদের আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দিইনি।

সাবেক উপদেষ্টাকে বিএনপি সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরবর্তীকালে খলিলুর রহমান নিজের চেয়ার ধরে রাখতে ‘লন্ডন মেকানিজম’-এর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিএনপি খলিলুর রহমানের সার্ভিসে এত বেশি খুশি হয়েছে, যার কারণে বিএনপি সরকার গঠন করেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে! অথচ অতীতের কোনো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো উপদেষ্টা নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে যুক্ত হননি। রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য এবং খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিপ স্টেটের ইঞ্জিনিয়ারিং করা নির্বাচন। তিনি সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং ড. খলিলুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী মবের রাজনীতি করে না, মবতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যারা আমাদের চরম বিরোধী, তারাও একবাক্যে স্বীকার করে জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে নিয়োজিত।

সমাবেশ শেষে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে সাবেক দুই উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত