সংকটেও বাড়ছে গাড়ি আমদানি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৬ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বে তেল সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আর এর প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে রেশনিং করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাইভেট কার দিনে ১০ লিটারের বেশি এবং মাইক্রোবাস ২০ থেকে ২৫ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল পাবে না। এদিকে তেলের সংকট দেখা দিলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে আমদানি করা গাড়ির সংখ্যা। গত মাসে ৩টি রো রো জাহাজে ১ হাজার ১৫৩টি গাড়ি এলেও জানুয়ারি মাসে এসেছিল ৫১৮টি গাড়ি। 

তবে আমদানি বাড়লেও শোরুমগুলোতে গাড়ি বিক্রি নেই বলে গাড়ি ব্যবসায়ীরদের বক্তব্য। অথচ গত আট মাসে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বন্দর থেকেই ৮ হাজার ৭১২টি গাড়ি ডেলিভারি হয়েছে এবং পুরো বছর (২০২৫) জুড়ে আমদানি হয়েছে ১৪ হাজার ১৬৪টি নানা ব্র্যান্ডের গাড়ি। ৩১টি রো রো জাহাজে করে এসব গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। অপরদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপাত্তে দেখা যায়, জুলাই ’২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ’২০২৫ পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৭ হাজার ৬৯২টি গাড়ি এলেও জুলাই ’২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ’২০২৬ সময়ে এসেছে ৮ হাজার ৭১২টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত আট মাসে আমরা ১ হাজার ৪৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৩ হাজার ১৬২ টাকা রাজস্ব পেয়েছি। একই সময়ে এর আগের বছরে পেয়েছিলাম ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৬৭ টাকা।

গত বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে ২ হাজার ৭৫টি গাড়ি এসেছিল এ বছর একই সময়ে আরও ২৯০টি গাড়ি বেশি এসেছে এবং ৫৭ কোটি ৮১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭৭ টাকা বেশি রাজস্ব পাওয়া গেছে বলে শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেখা যায় গত মাসে ৩টি জাহাজে ১১৫৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি এলেও এরমধ্যে নতুন গাড়ি ছিল ১৯৪টি এবং পুরাতন রিকন্ডিশন গাড়ি ছিল ৯৫৯টি। এছাড়া জানুয়ারি মাসে যেখানে মাত্র ৯২০টি গাড়ি ডেলিভারি হয়েছিল গত মাসে সেখানে ডেলিভারি হয়েছে ১ হাজার ১৭৪টি গাড়ি। কোন ধরনের গাড়ি বেশি আসছে এই প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি হওয়া রিকন্ডিশনড গাড়িগুলোর মধ্যে টয়োটো হাইয়েস মাইক্রোবাস, টয়োটা নোয়া (স্কয়ার ও ভক্সি), টয়োটা প্রিমিও কার, টয়োটা এলিয়ন কার, টয়োটা হেরিয়ার জিপসহ প্রভৃতি গাড়ির সংখ্যাই বেশি। এছাড়া নতুন গাড়ির মধ্যে বিড সিলন ৬, মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার জিপ ও প্রোটন গাড়িগুলো বেশি এসেছে।

এদিকে আগে যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের কারশেডে অনেক গাড়ি জমে থাকত। এখন আর গাড়ির জট দেখা যায় না। গাড়ি বন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ডেলিভারি হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের শো রুমের সেলস ম্যানেজার এ এইচ এম সার্থকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বন্দরের ফ্রি টাইমে আমরা গাড়িগুলোকে খালাস করে নিয়ে এসে থাকি। কারণে এখন ট্যারিফ বেশি হওয়ার কারণে খরচ বেড়ে যায়। বাড়তি খরচ কমাতে এখন আর বন্দরের ভেতরে গাড়ি ফেলে রাখা হয় না। এতেই বন্দরের শেডে গাড়ির সংখ্যা কম দেখা যায়।’ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি আসার সংখ্যা বাড়লেও বেচাবিক্রি নেই বলে আক্ষেপ করেন রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, এই রমজানে আমি একটা গাড়িও এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পারিনি। মানুষের পকেটে টাকা নেই, আর যাদের পকেটে টাকা আছে তারা টাকা সার্কুলেশন করছে না। ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। অর্থনীতির অবস্থা স্থিতিশীলতার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।

উল্লেখ্য, জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি করে বাংলাদেশ। বন্দরে অবস্থানকালে ট্যারিফ তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে যার বেশির ভাগেই খালাস হয় মোংলা বন্দরে। তবে ইদানীং অনেকে আবার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েও খালাস করছে। সাধারণত আমদানি করা গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় না করালে নিলামে বিক্রির জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি গাড়ির শেডে ১ হাজার ২৫০টি গাড়ি রাখার জায়গা রয়েছে। বর্তমানে বন্দরের শেডে থাকা ৮২০টি গাড়ির মধ্যে ৪০৯টি নতুন গাড়ি ও নিলামযোগ্য গাড়ি রয়েছে ৪১১টি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত