মধ্যপাড়া পাথর খনিতে উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫২ এএম

পাথর বিক্রি কম হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি (এমজিএমসিএল)। খনির তিনতলা ভবন পর্যন্ত ছুঁইছুঁই করছে পাথরের মজুদ। বর্তমানে খনির ২৫টি ইয়ার্ডে পড়ে আছে প্রায় ৪২০ কোটি টাকার ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টন পাথর। প্রকল্পে পাথর উত্তোলন বাড়লেও বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে প্রতি মাসেই মজুদের পরিমাণ বাড়ছে। এতে ব্যয় মেটাতে খনিটি পড়েছে দেনার মুখে।

দেশে বছরে পাথরের চাহিদা প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেলপথে প্রতি বছর ১ কোটি (ঘনফুট) পাথর প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া নদীশাসনসহ অন্যান্য সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার হয় পাথর। এসব পাথরের সিংহভাগ আমদানি হয় ভারত, ভুটান, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।

খনিসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চুক্তিবদ্ধ ৮০/১২০ বোল্ডার ও ৪০/৬০ সাইজের পাথর বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড না নেওয়ায় আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকট হয়ে উঠেছে।

খনি বন্ধ হলে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। এতে সরকারের লাখ লাখ রাজস্ব আয় কমবে। উৎপাদন ব্যাহত হলে খনির আর্থিক সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ হলে খনিতে কর্মরত মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। শুধু শ্রমিক নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, মধ্যপাড়া খনির পাথরের মান ভালো হলেও আমদানির পাথরেই ঝোঁক বেশি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। অন্যদিকে ধারদেনা করে খনির ঠিকাদারের বিল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে খনির ইয়ার্ডে মজুদ পাথর ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টন। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৬০ মিমি আকারের ব্লাস্ট ৯ লাখ টন, ৮০/১২০ বোল্ডার ৩ লাখ ৬৭ হাজার টন। বর্তমানে খনি থেকে ৬ সাইজের পাথর উৎপাদন হচ্ছে।

এমজিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডিএম জোবায়েদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীশাসন কাজে পাথর ক্রয় না করায় ইয়ার্ড পূর্ণ এবং বিদেশ থেকে নিয়ে আসা ডেটোনেটরের (বিস্ফোরক) ওপর রয়্যালটি না কমানোয় পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে খনির পাথর ব্যবহার নিশ্চিত করলে দেশের একমাত্র পাথরখনিটি প্রাণ ফিরে পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত