পরিবর্তনের অঙ্গীকারে উচ্চশিক্ষা কমিশন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠন হলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিলুপ্ত করে ২০২৬ সালে উচ্চশিক্ষার সার্বিক দেখভালের একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রস্তাবনা। সংস্থাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মান নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করবে। প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষা কমিশন ১৯ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে, এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ৮ জন পূর্ণকালীন সদস্য এবং ১০ জন খন্ডকালীন সদস্য থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন, হিসাব তলব, অনিয়মের তদন্ত এবং নির্দেশ অমান্য করলে প্রোগ্রাম বা কোর্সের অনুমোদন বাতিল কিংবা স্থগিতকরণ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশনা সংস্থাটির নানাবিধ ক্ষমতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান পদমর্যাদার দিক দিয়ে একজন মন্ত্রিসভা সদস্যের সমতুল্য এবং অন্য কমিশনাররা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সমতুল্য মর্যাদার অধিকারী হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আধুনিকীকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষায় সুশাসন আনার লক্ষ্যে উচ্চ এই কমিশন গঠনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বর্তমানে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার দেখভাল করলেও, প্রতিষ্ঠানটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে ইউজিসি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন দেশে শুধু ৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন দেশের উচ্চশিক্ষার কলেবর কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমান ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতিক সময়ে অনুমোদন পেয়েছে, যেগুলো এখনো তাদের কার্যক্রম শুরু করেনি। তবে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বিভিন্ন নিয়মতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা রকম আর্থিক, প্রশাসনিক এবং শিক্ষার অনিয়ম গণমাধ্যমগুলোতে জায়গা করে নিচ্ছে। দেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে অনেকে কাক্সিক্ষত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। সবার জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্মত উচ্চশিক্ষা এবং শিক্ষা পরবর্তী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর কমিশন দরকার। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, উচ্চশিক্ষার প্রসার, মান নিয়ন্ত্রণ ও একটি শক্তিশালী এবং স্থায়ী উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠন খুবই সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত, যা কেবল আর্থিক বরাদ্দ বণ্টনকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার মানদ- নির্ধারক হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা মনে করেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, উৎকর্ষ সাধন একই সঙ্গে বৃহৎ এই পরিসরে সংগঠিত এবং যুগোপযোগী করতে উচ্চশিক্ষা কমিশন হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ। এই কমিশন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কাজ করবে। বর্তমানে এই কমিশন গঠনের প্রয়াসের খসড়া প্রস্তাবে মতামত প্রদানের জন্য ১০টি মন্ত্রণালয়ে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

১৯৭৩ সালের ইউজিসি অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সংবিধিবদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটির ১২ জন সদস্যের কথা বলা হয়েছিল। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনজন উপাচার্য সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে উচ্চশিক্ষা কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে মোট সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯ জন করা হয়েছে এবং এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনজন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুজন উপাচার্যকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুক্রম বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবতার বিবেচনায় এই সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে। পরিমার্জিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী দেশের স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা পদাধিকার বলেই উচ্চশিক্ষা কমিশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। উপাচার্যদের যত বেশি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে, উচ্চশিক্ষা কমিশন তত বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা কমিশনের বর্ধিত কাঠামো অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আনবে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগের জন্য একটি ‘সার্চ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে প্রথিতযশা শিক্ষাবিদদের কমিশনে নিয়ে আসতে সাহায্য করবে। ফলে রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থেকে যারা এই কমিশনের সর্বোচ্চ পদ অলঙ্কৃত করবেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মোহভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা রাখি। উচ্চশিক্ষা কমিশনের খসড়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং করা, যা ১৯৭৩ সালের ইউজিসি অধ্যাদেশে নেই। তবে এই র‌্যাংকিং যদি স্বাধীন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়, তাহলে এতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত হবে এবং আরও কার্যকর ফলাফল যেতে পারে। যা উন্নত অনেক দেশে চর্চিত হচ্ছে। নির্দিষ্ট বছর অন্তর অন্তর বা প্রত্যেক বছরে মান নির্ণয়ের একটি বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে। পিয়ার রিভিউড পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যাচাই করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এসব স্বাধীন প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত পয়েন্টের ভিত্তিতে র‌্যাংকিং করা যেতে পারে, একই সঙ্গে র‌্যাংকিংকে প্রাধান্য দিয়ে গবেষণা ও বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার মাধ্যমে র‌্যাংকিংকে আরও কার্যকরা করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা উচ্চ র‌্যাংকিংয়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে অনুপ্রাণিত হবেন এবং সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষা কমিশনের খসড়ায় কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষা কমিশনের খসড়ায় অনিয়ম বা দুর্নীতি তদন্ত নথিপত্র তলব এবং তদারকির ব্যাপক ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে কেবল অনুদান স্থগিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রোগ্রাম বা কোর্সের অনুমোদন স্থগিত বা বাতিল এবং শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার মতো কঠোর নির্দেশ প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এই খসড়ায়। এ ছাড়া এই খসড়ায় ঢাকার বাইরে বিভাগীয় বা আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এটাও যুগান্তকারী, যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দেশব্যাপী বেড়েছে।

নতুন খসড়ায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত অভিন্ন বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়েছে ১৯৭৩ সালের আদেশে এ ধরনের সরাসরি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অনুপস্থিত। তবে এ ধরনের নিয়োগের বিধিমালা তৈরি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে উন্নত দেশের সফল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে। উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে গবেষণা, পিএইচডি, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষায় অবদান ও আলোকিত নৈতিক অবস্থান আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষা কমিশনের খসড়ায় কমিশনের চেয়ারম্যানকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদার হবে। উচ্চশিক্ষা কমিশন নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন বা আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধগুলো অভিযোগ উত্থাপনের পলে কমিশনের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইনের বিচার করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষা কমিশনের ওপর চাপ কমবে। এতে উচ্চশিক্ষা কমিশনের ক্ষমতাও কিছুটা বিকেন্দ্রীভূত হবে। বিদ্যমান অন্যান্য সেক্টরের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি। উচ্চশিক্ষায় অর্থায়ন, বিশেষ করে গবেষণায় অনুদান দাতা সংস্থা থেকে প্রাপ্তির চেষ্টা করা যেতে পারে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য সহজ শর্তে অথবা সম্ভব হলে, সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে শিক্ষা সামগ্রিকভাবে বেগবান হবে। এছাড়া কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরির কাজ করবে। এটা দেশে ও বিদেশে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাৎসরিকভাবে দেশের উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক মূল্যায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবনসহ সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ কমিশন গঠন প্রয়াসকে আরও কার্যকর করবে।

৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযীয় একাডেমিক সংস্কার এবং গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারের জন্য যুগোপযোগীভাবে করে তোলা কোনো বিকল্প নেই। কমিশনের যথার্থতা বহুলাংশে এই বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।  উচ্চশিক্ষা কমিশনের কেন্দ্রীয় প্রয়াস হিসেবে, দেশের উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষদের গবেষণা, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে করে চৌর্যবৃত্তি যাচাইয়ে কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডিতে যারা ভর্তি হচ্ছে তাদের ভর্তি করানোর জন্য উচ্চশিক্ষা কমিশনের আওতায় কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় আনা যেতে পারে। বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন অধ্যাদেশের খসড়ার ১৩ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, পদোন্নয়ন ও চাকরি সংক্রান্ত অভিন্ন বিধিমালা ও অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করবে; পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ নিজস্ব আইন, নিয়ম, বিধি ও স্বায়ত্তশাসনের আলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’। এছাড়াও এই অধ্যাদেশের ১ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, ‘অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাবে’। এখানে প্রশ্ন হলো যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন রয়েছে, তাদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা কমিশনের খসড়া প্রস্তাবনার এই দফাটি সাংঘর্ষিক কিনা? এর জবাবও রয়েছে অবশ্য ১৩ নম্বর দফাতে। এই আপাত বিরোধপূর্ণ অবস্থান কতটা ভারসাম্য রক্ষা করে ভারসাম্য করা যায়, তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন ২০২৫ এর গ্রহণযোগ্যতা। অর্থাৎ সর্বজনীন আইন ও যথোপযুক্ত সমন্বয় সাধনের ওপর নির্ভর করবে এই কমিশনের সাফল্য। ইউজিসিকে শক্তিশালী উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তর করা কেবল আইনি পরিবর্তন নয়, বরং এটি উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। প্রস্তাবিত এই আইনটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষিত যুবসমাজ জ্ঞান অর্জনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হবে। এই আশাবাদ নিয়ে গোটা জাতি অপেক্ষায় রয়েছে।

লেখকঃ উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত