মাদারীপুরে হত্যার জেরে ৪০ বসতঘরে আগুন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

মাদারীপুরে ওয়াইফাই ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদার হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বসতঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ১২ ঘন্টার ব্যবধানে দুটি ঘটনায় এখন পুরুষশূর্ণ্য পুরো এলাকা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অপরাধীদের আইননের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধ্যিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সাথে একই এলাকার হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে মনিরুজ্জামানের চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের জেরে সন্ধ্যায় হাসান মুন্সির গ্রুপের অন্তত ৪০টি বসতঘর ভাংচুর-লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়স্থল। হত্যাকান্ড ও আগুনের এই পাল্লাপাল্টি দুটি ঘটনায় আতঙ্কে বাসিন্দারা। বিচার চান ভুক্তভোগীরা।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে। আশ্বাস দেন দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার। এ সময় তিনি জানান, সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট।

নিহত আলমগীর হাওলাদারের বোন লাইজু আক্তার বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। আমাদের কেউ হাসান মুন্সির কোনলোকজনের বসতঘরে আগুন দেয় নাই। আগুন নিজেরাই ধরিয়ে আমাদের নামে অপবাদ দিচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ হামুমন নেছা বলেন, আমার ছেলে বিদেশে থাকে। কোন দলবল করে না। অথচ, রাতের বেলা এসে আমাদের বসতঘর ভাংচুর-লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি এর বিচার চাই।

বাচ্চু হাওলাদারের মেয়ে ডালিয়া আক্তার বলেন, আমাদের ঘরে কিছুই নাই। সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। কবে, এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে আমরা মুক্তি পাবো।

ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে। বাড়ানো হয়েছে টহল। জেলা প্রশাসনকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ আর কোন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

এদিকে আলমগীর হাওলাদার হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় ৮৬ জনের নামে মামলা করলে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপরদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত