কালো বিড়াল অশুভ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

কালো বিড়াল কেন ভয় বা অশুভের প্রতীক হয়ে উঠল? মধ্যযুগে অনেকেই বিশ্বাস করত, জাদুকররা তাদের আত্মা বিড়ালের শরীরে পাঠাতে পারত। অন্ধকার আর রহস্যের প্রতীক হওয়ায়, কালো বিড়ালকে ‘অশুভ আত্মার সঙ্গী’ হিসেবে দেখা হতো। এই ধারণাই পরবর্তীকালে ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকাসহ পশ্চিমের হ্যালোইন সংস্কৃতিতে। সব সংস্কৃতিতে কিন্তু কালো বিড়ালকে অশুভ বলা হয়নি। ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে কালো বিড়ালকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়। জাপানে কালো বিড়াল মানে সুস্বাস্থ্য ও সম্পদ, এমনকি বলা হয়, কালো বিড়াল থাকা মানে প্রেমে ভাগ্য খোলে।  জাহাজেও কালো বিড়াল রাখা হতো, ঝড়  থেকে রক্ষা আর ইঁদুর দমনের উদ্দেশ্যে। সব সংস্কৃতিতে কিন্তু কালো বিড়লকে অশুভ বলা হয়নি। প্রাচীন মিসরে ‘বাস্টেট’ দেবী ছিলেন মাতৃত্ব, সংগীত ও আনন্দের রক্ষক। তাকে কালো বিড়ালরূপে পূজা করা হতো। তার প্রতীক আজও অনেকে বাড়িতে রাখেন সুরক্ষা আর ইতিবাচক শক্তির আশ্রয় পাওয়ার জন্য। কালো রঙ আসলে  জেনেটিক্সের কারণে । এডগার অ্যালান পোর বিখ্যাত গল্প ‘দ্য ব্ল্যাক ক্যাট’-এ কালো বিড়ালের রহস্য নতুন মাত্রা দিয়েছে। আজকের দিনে কালো বিড়াল হলো এলিগেন্স, রহস্য আর স্বাধীনতার প্রতীক। তবু এখনো বিভিন্ন দেশের মানুষ কালো বিড়ালকে ‘অশুভ’ মনে করেন। যার কোনো কারণ নেই। এটি শতভাগ কুসংস্কার। 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত