চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম!

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার উদ্যোগ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের চট্টগ্রাম মহানগরী শাখা সম্প্রতি এই তরুণ নেতার নাম প্রস্তাব হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে।

সূত্রমতে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকায় জামায়াতের অপ্রত্যাশিত সাফল্য এলেও চট্টগ্রামে দলটির ফলাফল ছিল হতাশাজনক। নগরীর সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি আসনসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পায় জামায়াত। এই ব্যর্থতার পেছনে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তরুণ ও জননন্দিত মুখের অনুপস্থিতিকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই ‘ভুল’ আর পুনরাবৃত্তি করতে চায় না দলটি। ফলে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তির অধিকারী কাউকে খুঁজছে জামায়াত। সেই বিবেচনা থেকেই সাদিক কায়েমের নামটি আলোচনায় আসে।

ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী সাদিক কায়েম জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা হিসেবেও পরিচিত। তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় হলেও বর্তমানে তার পরিবার খাগড়াছড়িতে থাকেন। তবে নিয়মিত বাড়িতে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। তরুণদের মধ্যে তার এই গ্রহণযোগ্যতা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধনকে কাজে লাগাতে চায় জামায়াত।

জামায়াত সূত্র জানায়, প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে গোপন ভোট নেওয়া হয়। সেই ভোটে মেয়র পদে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমের নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে এই চারজনের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে সাদিক কায়েমের নামও প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন ভোটে উঠে আসা কয়েকজন প্রবীণ নেতার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় একজন নেতার নাম প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত