প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে বৃক্ষরোপণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর জে সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মোস্তাক আহাম্মদ। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটস, হবিগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, ২০১৮ সাল থেকে মাধবপুরে বিভিন্ন রাস্তার পাশে, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, কবরস্থান, শ্মশান ও পতিত জমিতে তিনি প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ফলজ গাছের চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, বেল, জলপাই, কদবেল, পেয়ারা ও লটকনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষ রয়েছে। ইতোমধ্যে জগদীশপুর জে সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে লাগানো গাছগুলোতে তিন বছর ধরে ফল ধরতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে জগদীশপুর জে সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজ তার নেশা ও ভালোবাসায় পরিণত হয়।
শুধু গাছ লাগানোতেই তিনি থেমে থাকেননি। রোপণ করা প্রতিটি গাছের চারপাশে বেড়া দেওয়া, নিয়মিত পরিচর্যা করা এবং গাছগুলোকে বড় করে তোলার জন্য নিজেই সময় ও শ্রম দিচ্ছেন। তার প্রচেষ্টায় জগদীশপুর তেমুনিয়া থেকে বড়ধলিয়া, ইটাখোলা রেলস্টেশন ও পূর্ব চারাভাঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এছাড়া সন্তোষপুর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও মসজিদ, জগদীশপুর- সন্তোষপুর-চারাভাঙ্গা সম্মিলিত কবরস্থান, জগদীশপুর-মির্জাপুর সড়ক, বেলঘরের দুইটি প্রধান রাস্তা, বিভিন্ন মাদ্রাসা, কবরস্থান ও শ্মশান এলাকায় গাছ লাগানো হয়েছে।
স্থানীয় বেলঘর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ শামীম বলেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের গাছের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই অনন্য। গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়, ফল ও ফুল দেয় এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। তিনি শুধু গাছ লাগিয়েই বসে থাকেন না। সন্তানদের মতো মমতা দিয়ে গাছগুলোর যত্ন নেন। রাস্তার পাশে বা কোনো খালি জায়গা দেখলেই সেখানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন।
মাধবপুরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পরিবেশকর্মী ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, তার লাগানো গাছের কারণে পরিবেশ দিন দিন সবুজ ও শ্যামল হয়ে উঠতে পারে। সমাজের সবাই যদি তার মতো এগিয়ে আসেন, তাহলে একদিন আমাদের দেশ ফুলে ফলে ভরে উঠবে। পরিবেশও হবে আরও সুন্দর।
জগদীশপুর জে সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নুরুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সবসময় সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে থাকি। তিনি শিক্ষার্থী নিয়ে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন। যা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে বেশি করে গাছ লাগায়, তাহলে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারব এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে পারব।
