মিরপুরে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১১ রানে হার এবং ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর এবার বাংলাদেশের একটি রিভিউ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষ ওভারের নাটকীয় সেই রিভিউটি আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা কেন নিতে দিলেন, তা নিয়ে ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান মূলত দুটি বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে:
১. বিলম্বিত সিদ্ধান্ত: পাকিস্তানের দাবি, বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ১৫ সেকেন্ডের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর নিয়েছে।
২. রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত: পিসিবির অভিযোগ, মাঠের বড় পর্দায় রিপ্লে দেখার পর বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে, যা আইসিসির প্রটোকল অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। নিয়ম অনুযায়ী, বাইরে থেকে কোনো সংকেত বা রিপ্লে দেখে রিভিউ নেওয়া নিষিদ্ধ।
ঘটনাটি ঘটেছিল পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে। রিশাদ হোসেনের একটি ডেলিভারি শাহিন শাহ আফ্রিদির লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে গেলে আম্পায়ার সেটিকে ‘ওয়াইড’ সংকেত দেন। জয়ের জন্য তখন পাকিস্তানের দরকার ছিল ২ বলে ১২ রান। ঠিক তখনই বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এলবিডব্লিউর জন্য রিভিউ আবেদন করেন।
রিভিউতে এলবিডব্লিউ না হলেও দেখা যায়, বলটি আফ্রিদির ব্যাটে হালকা স্পর্শ করেছিল। ফলে আম্পায়ারের দেওয়া ‘ওয়াইড’ সিদ্ধান্তটি বাতিল হয় এবং বলটি ডট বল হিসেবে গণ্য হয়। এতে শেষ বলে পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২ রান, যা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১১ রানে ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই রিভিউ প্রসঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, "লিটন এবং শান্ত দুজনেই পরামর্শ দিয়েছিল যে যেহেতু আমাদের রিভিউ বাকি আছে, তাই আমাদের এটি নেওয়া উচিত। আমরা জানতাম আমাদের দুটি রিভিউ হাতে আছে এবং এটি আমাদের পরিকল্পনারই অংশ ছিল।"
যদিও রিভিউটি সফল হয়নি, তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় সমীকরণ পাকিস্তানের প্রতিকূলে চলে যায়। পিসিবি এই ঘটনার একটি প্রকাশ্য স্বীকৃতি বা ভুল স্বীকার চাইছে ম্যাচ রেফারির কাছ থেকে। যদিও আইসিসির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
'আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিলের জন্য শুভকামনা'