উত্তরায় রাতভর উত্তেজনা, হামলা-অগ্নিসংযোগ

মার্কেটের সামনে রিকশার পার্কিং নিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ রিকশা ও অটোরিকশার চালকরা। এ সময় সড়ক অবরোধ করে হট্টগোল, মব সৃষ্টি করে শপিং মলের মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। গত রবিবার রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং মলের সামনে রাতভর এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ভুয়া। মব সৃষ্টি করে শপিং মলের মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ওসি বলেন, ঘটনার সূত্রপাত হয় উত্তরা স্কয়ার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে একটি রিকশা পার্কিং করলে ওখানকার নিরাপত্তাকর্মী রিকশাচালককে চলে যেতে বলেন। রিকশাচালক না গেল তার রিকশার পেছনে লাঠি দিয়ে বাড়ি (লাঠিপেটা) দেয়। এ নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। এরপর একাধিক রিকশা ও অটোরিকশার চালকরা মার্কেটের সামনে হট্টগোল করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে এলাকাবাসী ও রিকশাচালকরা মিলে মব সৃষ্টি করেন। এ ঘটনা খুব অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে গত রবিবার রাতে শুরু হওয়া এই সহিংসতা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে রবিবার রাতে এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিকশাচালকের মৃত্যু গুজবটি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শত শত রিকশাচালক জড়ো হয়ে ওই মার্কেটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় মার্কেটের সামনের জনপথ রোডে আগুন লাগিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। ভাঙচুর-হামলার ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় (ঢাকা-১৮ আসন) সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে ঘটনাস্থলে গিয়ে রিকশাচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে দেখা যায়।

বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের দাবি, রবিবার রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং মলের সামনে এক রিকশাচালককে পিটিয়েছেন ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আহত রিকশাচালককে ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয় বলে গুজব ছড়ায়। এতে উপস্থিত জনতা আরও বিক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা উত্তরা স্কয়ার শপিং মলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বিক্ষোভের রেশ ধরে চালকরা উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়েও হামলা চালান এবং ভবনের সামনে রাখা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেন। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাতের উত্তেজনার রেশ গতকাল সোমবার সকালেও কাটেনি। রিকশাচালকরা উত্তরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালান। এতে করে উত্তরা হয়ে বিমানবন্দর ও টঙ্গীমুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত