শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় টুকিটাকির চাহিদা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:২২ এএম

‘কালো বেল্টের আছে?’ এভাবে ঘড়ির খোঁজ করে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নাফিজা। ঈদ পোশাক আগেই কেনা হয়ে গেছে তার। এবার ঘড়ি ও চুড়ি কেনার বায়না। তাই মায়ের সঙ্গে আরেক দফা এসেছে কেনাকাটায়।

রাজধানীর ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টের সামনের ফুটপাতে ঘড়ির দোকানে তার সঙ্গে দেখা। জানতে চাইলাম, কালো বেল্টের ঘড়ি কেন? চটপট উত্তর দিল, ‘এবার ঈদের জামা কালো; জামার সঙ্গে যেন ঘড়ির রঙ মেলে।’  পাশে দাড়িয়ে থাকা তার মা মুচকি হেসে বললেন, ‘চুড়ি আর মেহেদিও কেনা লাগবে। না হলে বাসায় ফিরবে না।’

গতকাল মঙ্গলবার ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, মৌচাক এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই বেশি দেখা মেলে। পোশাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভিড় বেড়েছে টুকিটাকির দোকান প্রসাধনী, ঘড়ি, চশমা, মেহেদি মতো অনুষঙ্গে। শপিং সেন্টার থেকে শুরু করে রাস্তার দুই পাশের ছোটখাটো দোকানে প্রচন্ড ভিড়। ঈদের দুয়েক দিন আগে এমন ভিড় সামাল দিতে হয় টুকিটাকি পণ্যের দোকানিদের।

কামরাঙ্গীরচর থেকে নিউ মার্কেটে দ্বিতীয় দফা শপিং এসেছেন আসফিয়া খাতুন ও তার বড় ভাই রমিজ হোসেন। বোনকে একটু খোঁচা দিয়ে রমিজ উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ওড়না ও চুড়ি তার চাই-ই চাই। আসাফিয়া খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের বড় কোনাকাটা এক সপ্তাহ আগেই শেষ। এখন এসেছি সেগুলোর সঙ্গে ম্যাচিং করে টুকিটাকি বাজার করতে।’

পরশ হোসেন এসেছেন মায়ের জন্য একটি ব্যাগ ও নিজে পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে একটি স্যান্ডেল কিনতে। তিনি বলেন, ‘কাল গ্রামে চলে যাব। কেনাকাটা আগেই সেরেছি। এর মধ্যে মনে হলো মায়ের জন্য একটা ব্যাগ নিই। পাঞ্জাবির সঙ্গে স্যান্ডেলও লাগবে। তাই এলাম।’

মৌচাকের ফরচুন মার্কেটে পারপেল কসমেটিকসের কর্ণধার শরিফ বলেন, ‘প্রসাধনীর বাজার রোজার শেষ বেশি জমে উঠেছে। তবে ক্রেতার চাপ কম। নিউ মার্কেটের ভ্রাম্যমাণ প্রসাধনী বিক্রেতা ফিরোজ হোসেন বলেন, এগুলো (প্রসাধনী) বিক্রি করতে বেশি সময় দিতে হয়। সকাল থেকে ক্রেতা আসছে প্রচুর।

ফার্মগেট এলাকায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, দম ফেলার ফুরসত নেই দোকানিদের। গেঞ্জি, জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, চশমার ভাসমান দোকানে একের পর এক ক্রেতা আসছেন। সামাল দিতে গিয়ে কথা বলার সুযোগই পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

ভ্রাম্যমাণ পায়জামা বিক্রেতা প্রণব দাশ বলেন, ‘যা বিক্রি এর সবচেয়ে বেশি আজ থেকে চাঁদরাত পর্যন্ত। দুপুর থেকে বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। রাতেও কম হবে না। এখন ছোট ছোট পণ্যের বিক্রি ভালো হবে।’

একরাম হোসেন নামের এক বেল্ট-মানিব্যাগ বিক্রেতা বলেন, ‘ফুটপাতে যারা কেনাকাটা করতে আসেন, তাদের হাতে টাকা আসে শেষ মুহূর্তে। তখন এ ধরনের জিনিস কেনেন। এখন কেনাবেচা প্রতিদিন বাড়বে।’

তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় স্বল্প আয়ের লোকজন ফুটপাতে কেনাকাটা করেন বেশি। আবার অন্যরাও বড় বড় মার্কেট শেষে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে আসেন ওইসব ছোট দোকানে।

নিউ মার্কেটে উপচেপড়া ভিড় : রাজধানীর অন্য এলাকার তুলনায় নিউ মার্কেট এলাকায় প্রচন্ড ভিড়। মার্কেট জুড়ে ছিল ক্রেতাদের ঢল। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকে এ ভিড় আরও তীব্র আকার ধারণ করে। নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী কবিরুল জানান, পুরো রমজান জুড়েই ক্রেতা উপস্থিতি থাকলেও শেষ সপ্তাহে এসে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গতকাল সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মার্কেটে আসছেন অনেকেই। ঈদের আর দুই-তিন দিন বাকি তাই সবাই মার্কেটে আসছেন।

যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন জাহিদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) ২৭ রমজান, তাই ভাবলাম সব কেনাকাটা শেষ করি। কিন্তু এসে দেখি মানুষের ঢল, ঠিকমতো হাঁটাই কষ্টকর। বাচ্চাদের নিয়ে কেনাকাটা করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তবুও শেষ তো করতেই হবে।’

এদিকে অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। মার্কেট এলাকায় যানজটও বেড়েছে কয়েকগুণ। যার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। অনেকে হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের দুয়েক দিন এ ভিড় আরও বাড়বে। আর ক্রেতাদেরও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে সময় নিয়ে কেনাকাটা করার জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত