ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া একেই বলে। অস্ট্রেলিয়া নারী ফুটবল দলকে এশিয়ান কাপের ফাইনালে তুলতে জাদুকরী মুহূর্তে জয়সূচক গোলটি করলেন স্যাম কার। তাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের দশম শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যায় লহমায়।

মঙ্গলবার পার্থের অপ্টাস স্টেডিয়ামে শুরুতেই এলি কারপেন্টারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে নিজেদের ভুলে সমতায় ফিরতে হয়েছিল তাদের। পেনাল্টি থেকে চীনকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন ঝ্যাং লিনিয়ান। ম্যাচটি যখন ১-১ সমতায় এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই জাদু দেখান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক, ৫৮ মিনিটে কারের গোলে নির্ধারিত হয় ম্যাচের ভাগ্য। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল।

শনিবার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালে স্বাগতিকদের খেলতে হবে জাপান অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। ম্যাটিল্ডাসরা ২০১০ সালের পর তাদের প্রথম এশিয়ান কাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। ২০১০ সালের পর সেটি হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রথম এশিয়ান কাপের ফাইনাল।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত অস্ট্রেলিয়া। মেরি ফ্লাওয়ারের ভলি পোস্টের ওপর দিয়ে গেলে সে সুযোগ নষ্ট হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই ফোর্ড গোল করলে স্বাগতিক দর্শকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। এলি কার্পেন্টার ডান দিক দিয়ে আক্রমনে উঠে  বক্সে বল রাখেন। ম্যানসিটি তারকা ফাউলার বল দেন ফোর্ডকে, যার জোরালো শট পোস্টে জড়ায়।

২৬ মিনিটে রক্ষণভাগের ভয়াবহ ভুলে চীন ম্যাচে ফেরে। অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার ক্লার হান্ট বক্সের ভেতরের বল ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি। ঝ্যাং লিনিয়ান বল পেয়েই গোলকিপার ম্যাকেঞ্জি আর্নল্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে বক্সে পড়ে গিয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন এবং তা থেকে নিজেই গোল করেন।

প্রথমার্ধে এই গোলটা বাদে ম্যাচে অনেকাংশেই পিছিয়ে ছিল চীন। বল তাদের দখলে ছিল মাত্র ৩৮ শতাংশ। বিরতি থেকে ফিরে অস্ট্রেলিয়া একটা ঝলকের অপেক্ষায় ছিল, সেটা এনে দেন অধিনায়ক কার। এই গোলের পেছনে ক্যাইতলিন টরপের ও কাইতলিন ফোর্ডের বড় অবদান। ফোর্ডের পাস নিয়ে অনেকটা দৌড়ে চীন কিপারকে কাটান কার। তবে চলে যান দুরূহ কোণে। সেখান থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান চীনের ডিফেন্ডারদের সুযোগ না দিয়েই। তাতেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৩৫ হাজার দর্শক উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। দলকে ফাইনালে তোলা অস্ট্রেলিয়ার কোচ জো মন্তেমুরো বলেন, ‘ফাইনালে ওঠার আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। তবে আমরা জানি, আমাদের আরও ভালো হতে হবে। তবেই আরও বড় কিছু ছোঁয়া সম্ভব।’

জন্মভূমিতে এসে চীনকে টানা শিরোপা এনে দিতে না পারায় দায় আন্তে মিলিচিচের। এই কোচ তারপরও দলের চেষ্টার প্রশংসা করেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে আমরা সাহসী ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের (অস্ট্রেলিয়ার) ব্যক্তিগত দক্ষতাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মুখোমুখি হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত