১৮ নভেম্বর ঢাকা স্টেডিয়ামে ডান পায়ের এক জাদুকরী টোকায় ভারতকে হারানোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিলেন শেখ মোরসালিন। রাকিবের অসাধারণ পাসে ভারতীয় গোলকিপার ও দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় গোলটি করেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। যে গোলে বাংলাদেশ শেষ করেছিল ঘটনাবহুল এক বছর। তাতে যেমন প্রশান্তি ছিল, ছিল আক্ষেপও। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাকি ম্যাচগুলোতে আরেকটু ভালো ফল যদি আসত, এখনো এশিয়ান কাপের মূল পর্বের স্বপ্নটা বেঁচে থাকত। সে আশা শেষ হয়ে গেছে। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার। তবে দলের ফুটবলাররা এভাবে নিচ্ছেন না ম্যাচটাকে। সিঙ্গাপুর পরীক্ষার আগে ২৬ মার্চ তারা ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ। এই দুটি ম্যাচকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ফুটবলাররা। কাল তারা হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে ঝাম ঝড়িয়েছে প্রথম সেশনে। প্রথম দিনেই সংবাদকর্মীদের কাছে মোরসালিন দিয়েছেন ভালো কিছুর প্রতিশ্রুতি।
ঈদ আসন্ন। অথচ এবারও ফুটবলারদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ নেই। ২১ মার্চ হয়তো ঈদের দিনই তাদের উড়তে হবে ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে। এই বলিদানে বলীয়ান হয়ে মোরসালিন চাচ্ছেন আসছে দুটি ম্যাচ জিতে দেশকে ঈদের একটা বিশেষ উপহার দিতে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বড় প্রতিপক্ষকে হারানোর ম্যাচগুলোতে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে মোরসালিনকে। আবাহনীর ফরোয়ার্ড জ্বলেছেন বলেই ভারতকে হারানোর স্বাদ মিলেছে বহু বছর পর। এবার নতুন বছর সামনে দুটি নতুন চ্যালেঞ্জেও মোরসালিন চান জ্বলতে। তবে একা নন, সদলবলে ভালো ফুটবল খেলার কথা বলেছেন তিনি। বাংলাদেশের সামনে আছে সি গ্রুপের দ্বিতীয় হওয়ার সুযোগ। তবে লক্ষ্যটা কঠিন। তার জন্য গ্রুপের শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরকে তাদের মাঠে তো হারাতে হবেই, পাশাপাশি গ্রুপের অপর ম্যাচে হংকংয়ের হারের প্রত্যাশা করতে হবে ভারতের কাছে।
মোরসালিন কঠিন লক্ষ্যটা পূরণের আশা দেখিয়ে বলেন, ‘যারা দলে আছেন, সবাই খুবই ভালো অবস্থায় আছে। আমাদের একটা সুযোগ আছে বাছাইয়ে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করার। এই ম্যাচটা জিততে পারলে আমরা হয়তো দ্বিতীয় হব।’ সিঙ্গাপুরের ম্যাচের আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে খুশি মোরসালিন, ‘এজন্য বিশেষভাবে বাফুফেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে সিঙ্গাপুরের আগে আমরা ভিয়েতনামের মতো ভালো একটি দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। তো এটা আমাদের সিঙ্গাপুরের ম্যাচ খেলার আগে একটা বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।’
ঢাকায় ২০ মার্চ পর্যন্ত চলবে ক্যাম্প। এবার শুরু থেকেই ক্যাম্পে আছেন কানাডা প্রবাসী শামিত সোম। এর আগে দুই ম্যাচ খেললেও ক্যাম্পে শুরু থেকে থাকেননি ক্লাবের খেলার কারণে। এবার শামিত ফ্রি এজেন্ট বলেই শুরু থেকে দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এটাকে ইতিবাচক মনে করছেন মোরসালিন, ‘আমি বলতে চাই আমরা ভাগ্যবান যে সবাইকে শুরু থেকেই পাচ্ছি। সবাই একসঙ্গে শুরু করলে দলের বোঝাপড়া ভালো হয়।‘’
বড় ম্যাচে গোলটাকে অভ্যাসে পরিণত করা লক্ষ্য মোরসালিনের, তবে তার আগে তিনি দলকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করি দলের হয়ে খেলার জন্য। আমার প্রথম অগ্রাধিকার দলকে জেতানো। এরপর যদি সুযোগ আসে অবশ্যই চেষ্টা করব গোল করার।’
ঈদ পরিবারের সঙ্গে করা হবে না, এ নিয়ে কষ্ট থাকলেও জাতীয় স্বার্থকেই বড় করে দেখছেন মোরসালিন, ‘আমরা তো আসলে আত্মত্যাগ করছি। পরিবারের সঙ্গে কেউ ঈদ করতে পারছি না। তাই আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন ভালো একটা রেজাল্ট করতে পারি। দেশের মানুষকে জয় উপহার দিতে চাই, এটাই আমাদের আশা থাকবে।’
এদিকে অভিজ্ঞ লেফটব্যাক রহমত মিয়া বাছাইয়ের শেষটা জয়ে রাঙানোর দলের ইচ্ছের কথাটাই জানিয়েছেন, ‘আগের তুলনায় আমাদের দলের পারফরম্যান্স এখন অনেক ভালো। তবে প্রথম থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল কোয়ালিফাই করার। তবে দুর্ভাগ্যবশত যেহেতু হয়নি, তাই চেষ্টার করবো শেষ ম্যাচটা জিততে। এই ম্যাচেই আমাদের শতভাগ মনোযোগ। অবশ্যই সিঙ্গাপুর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমার মনে হয় সিঙ্গাপুরের থেকে ভিয়েতনাম আরও শক্তিশালী। তাই দুটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য ভালো হবে।’