ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছিল ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ লেখা বিশাল এক ব্যানার। কিন্তু মাঠের ফুটবলে তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। উল্টো নিজেদের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে চেলসি। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিল ব্লুজরা।
গত বছরের জুলাইয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই চেলসির দর্শকরা এমন ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে ৫-২ গোলে হারের পর ফিরতি লেগের শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে চেলসি। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। ৬ মিনিটে খভিচা কভারাতসখেলিয়ার গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। বিরতির আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে স্বাগতিকরা।
জানুয়ারিতে এনজো মারেস্কার স্থলাভিষিক্ত হওয়া চেলসি কোচ লিয়াম রোসেনিওর এদিন বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে ফেরানো এবং ২০ বছর বয়সী রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মামাদু সারকে সুযোগ দেওয়া—কোনোটিই কাজে আসেনি। বরং সারের ভুলে প্রথম গোলটি হজম করতে হয়।
ম্যাচ শেষে হতাশ রোসেনিওর বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো আসরে আপনি যদি এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভুল করেন, তবে এর চেয়ে ভালো কিছু পাওনা থাকে না। প্রথম গোলটি ছিল আমাদের বড় ভুল। এত গোল হজম করা মেনে নেওয়া অসম্ভব।’
ম্যাচের একপর্যায়ে চেলসির খেলোয়াড়রা যখন একেকটি পাস দিচ্ছিলেন, গ্যালারি থেকে বিদ্রূপাত্মক চিৎকার ভেসে আসছিল। ৬২ মিনিটে পিএসজি তৃতীয় গোলটি করার পর অনেক দর্শক খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করেন। রোসেনিওরের অধীনে এটি চেলসির টানা তৃতীয় হার। ম্যাচের শেষ দিকে গোড়ালি চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন চেলসির ডিফেন্ডার ট্রেভোহ চালোবাহ।
চেলসির মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে তাদের ‘প্রাক-ম্যাচ হডল’ বা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ঐক্যের মহড়া নিয়ে। এবার তারা প্রতিপক্ষ পিএসজির অর্ধে গিয়ে এই মহড়া দেয়। যদিও পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে একে ‘অসম্মানজনক’ বলতে রাজি হননি। প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে থাকা চেলসির সামনে এখন একমাত্র ভরসা এফএ কাপ। আগামী কোয়ার্টার ফাইনালে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
পাকিস্তানের হামলার পর 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু' ভারতের সহায়তা চাইলেন আফগান তারকা স্পিনার
আজ বায়ার্নের গোলপোস্টে দেখা যাবে ১৬ বছরের কিশোরকে?