ঈদ মোবারক স্বস্তির যাত্রা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ মোবারক জানাচ্ছি দেশবাসীকে। মাহে রমজানের এক মাস কৃচ্ছ্রসাধনের পর, আমাদের জীবনে আসছে আনন্দের এক বর্ণালি উৎসবের দিন। সেই উৎসবের মর্মবাণী হচ্ছে আত্মশুদ্ধি, সংযম, মানবিকতা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন। আবার ওসব বিষয়ের প্রতি অনুগত থেকে মানুষকে শেখানো যে, চলমান জীবনের বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধানে নিজেদের নমনীয় করে তোলা, যুক্তিপূর্ণ অভিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে যতটা সম্ভব বিরোধ নিষ্পত্তি করা, ঝগড়া-ঝাটি পরিহার করে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং ইসলামের সৌম্য-সৌন্দর্যকে সুমহান করে তোলা মুসলমানের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু রমজান মাসে কি সেই দায়িত্ব-কর্তব্য পালিত হতে দেখি আমরা? কাঁচাবাজার কিংবা পোশাক বাজারে যেন মূল্য বাড়ানোর হিড়িক লাগে। কী করে ক্রেতার পকেট শূন্য করা যায়, সেই কসরত লক্ষ্য করি প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম ব্যবসায়ীর মধ্যে। এতে করে মুসলমানের কৃচ্ছ্র যে সর্বসুন্দর হয়ে ওঠে না, তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। আর সেখানে আমাদের ন্যায়নীতি সমালোচিত হয়।

আমাদের ইমানের জোর যে আলগা হয়েছে দুনিয়াদারির কাছে, তাই প্রমাণ হয়। দুনিয়াদারি এমনই এক মোহময় জগৎ, যাকে পরিহার করা যায় না, আবার সর্বান্তকরণে আঁকড়েও থাকা যায় না। এই দ্বিধা ও দ্বন্দ্বই আমাদের নৈতিকতাকে দূষিত করে। তাই পবিত্র মাস রমজান এলে আমরা সব অন্যায়, দুর্নীতি, দুর্ব্যবহার পরিহার করার চেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে চাই। কিন্তু পারি না। এ বছরও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় সড়কপথে বাসে বেশি ভাড়া নেওয়ার খবর আমরা পড়ছি, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখছি ও শুনেছি। তবে তুলনামূলকভাবে সরকারি ছুটি বেশি দিনের হওয়ায় বাস-ট্রেন মিলিয়ে যাত্রীরা অনলাইনে ও কাউন্টারে টিকিট পেয়েছে সহজে। গ্রামের বাড়িতে ঈদ করার যে মানসিক টান, তাকে স্বস্তি দিয়েছে পুলিশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার কল্যাণ। হাইওয়েতে যেসব পয়েন্টে সাধারণত জ্যামের সৃষ্টি হয়, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও ট্রাফিক নিয়োগ করে সুফল মিলছে। মহাসড়কে করিমন-নসিমন প্রভৃতি যন্ত্রচালিত ছোট স্থানীয় যানবাহন যাতে আসতে না পারে, সেজন্য স্বেচ্ছাসেবক ও আনসারদের উপস্থিতি বেশ কাজে লেগেছে। তবু শঙ্কা ও অস্বস্তিতে আছে যারা বাড়ি ফিরছেন, তাদের মধ্যে। কারণ সড়ক-মহাসড়ক আজও নিরাপদ নয়। বাস-চালকের অদক্ষতা আর লক্কড়মার্কা বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে। ফলে ঈদের আনন্দ পরিণত হচ্ছে বিষাদে। আমাদের সড়কের বাস-ট্রাকচালকদের সড়ক সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দেওয়া খুবই জরুরি।

মানুষের অমূল্যপ্রাণ যে চালকের অদক্ষতার কারণে মৃত্যুর মুখে পড়ে, পঙ্গু হয়ে যায়, বাড়ির উপার্জনক্ষম মানুষ থাকে না, সেসব সম্পর্কে বাস-ট্রাকচালকদের শিক্ষা দেওয়া উচিত। আর সেটা করবে সরকারের ট্রাফিক বিভাগ। বাস-ট্রাক-কারের লাইসেন্সিং কর্র্তৃপক্ষও দায়িত্ব নেবে। সড়কে সিগন্যালিংয়ে ভুল করলে, চালককে ড্রাইভিং স্কুলে পাঠাতে হবে। তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নম্বর কাটা যাবে। ফাইন করলেও কিছুটা সুফল পাওয়া যাবে। লাইসেন্সের সর্বাধিক ৬ পয়েন্ট পর্যন্ত ট্রাফিক ভুল করলে, সেই ড্রাইভার আর কখনো লাইসেন্স পাবে না। এই আইনি ব্যবস্থা করলে সড়ক, মহাসড়ক ও মহানগরে বহু রকম অন্যায়, দুর্ঘটনা, মৃত্যু কমে আসবে। স্বস্তি নেমে আসবে জনজীবনে। এখনো যেসব গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে রোজার মাসের বেতন হয়নি, ঈদের বোনাস দেওয়া হয়নি, সেগুলোতে আজই তা পরিশোধ করার তাগিদ দিচ্ছি আমরা। মনে রাখতে হবে, ঈদের পবিত্রতা আনন্দ ভাগাভাগির উৎসব। বর্ণাঢ্য পোশাক-আশাক আর ক্ষীর-পোলাও-কোর্মার আনন্দ আমাদের যে বিনোদনই দিক না কেন, বেঁচে থাকার মতো মহৎ আনন্দ কোথাও নেই। ঈদুল ফিতর আমাদের যে শিক্ষা দেয়, তা পালন করাই প্রিয় কর্তব্য হোক। আনন্দমুখর হোক নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের আমলের প্রথম ঈদ। রমজানের ঈদের আনন্দ সারা বছরের কর্ম-আনন্দের উৎস হোক ঈদ  মোবারক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত