ইরান ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা সরদার আজমুনকে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সরকারের প্রতি 'আনুগত্যহীনতা' এবং রাজনৈতিক কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর ফলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব 'শাবাব আল-আহলি'-তে খেলা আজমুন সম্প্রতি দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে একটি ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন।ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন:"বিশ্বের অন্যতম সফল একজন মেধাবী মানুষের সাথে দেখা হওয়াটা ছিল আনন্দ এবং সম্মানের।"
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছিল ইরান। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুবাই শাসকের সঙ্গে আজমুনের সাক্ষাৎকে 'রাষ্ট্রদ্রোহিতা' হিসেবে দেখছে তেহরান কর্তৃপক্ষ।
ইরানের কট্টরপন্থী রেভোল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, জাতীয় দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আজমুনের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটবল পণ্ডিত মোহাম্মদ মিসাঘি আজমুনের আচরণকে 'শিশুসুলভ' এবং 'মর্যাদাহীন' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "জাতীয় দলের জার্সি পরার যোগ্যতা তার নেই। যারা গর্বের সাথে জাতীয় সঙ্গীত গায়, কেবল তারাই এই জার্সির যোগ্য।"
২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কারণে আগে থেকেই ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। যদি ইরান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেয়ও, আজমুনের অভাব তাদের ভালোই ভোগাবে। ২০১৪ সালে অভিষেকের পর থেকে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করে তিনি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কেবল আজমুনই নন, আরব আমিরাতে খেলা আরেক ফরোয়ার্ড মেহেদি ঘায়েদি এবং সাবেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় সরোশ রাফেই-এর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এর আগে নারী এশিয়ান কাপে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় নারী দলের সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন, যদিও পরবর্তীতে পাঁচজন দেশে ফিরে আসেন।
