 পর্যটনপিপাসু মানুষের ভিড়

ঠাঁই নেই কক্সবাজারে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

পাহাড় আর সমুদ্রের টানে প্রতি বছরের মতো এবারের ঈদের ছুটিতেও লাখ লাখ পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত ছিল সমুদ্রকন্যা কক্সবাজার। ঈদের ছুটিতে গত তিন দিন সৈকতের লোনাজলে গা ভাসিয়েছে কমপক্ষে সাড়ে তিন লাখ দর্শনার্থী। তবে ঈদের টানা ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটক কমতে শুরু করেছে।

দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, ছুটি শেষ হলেও এখনো পর্যটকের উপস্থিতি রয়েছে। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে নিজেদের মতো সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা। সৈকতের বিস্তৃত বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি বিচবাইক, ঘোড়া ও জেটস্কিতে চড়ে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা। কেউ কেউ কিটকটে বসে হিমেল হাওয়ায় গুনছেন সাগরের ঢেউ। অনেকে ব্যস্ত নিজেদের ভ্রমণের স্মৃতিকে ক্যামেরাবন্দি করতে। তবে অধিকাংশ পর্যটকের গন্তব্য সাগরের লোনাজলে গা ভাসিয়ে অবসাদ অবগাহনে।

ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলছেন, ঈদে উদযাপনের পাশাপাশি প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে কক্সবাজার ছুটে আসা। নির্বিঘেœ ঘুরতে পেরে খুশি তারা।

পর্যটক রায়হানুর রহমান বলেন, ‘ঈদের পরদিন কক্সবাজারে এসেছি। আজ (মঙ্গলবার) রাতে ফিরে যাব। এখানে এসে দেখি সাগরতীরে পা ফেলার জায়গা নেই। এত মানুষ, এত হৈ-হুল্লোড় আগে দেখিনি। খুব আনন্দ লাগছে এত মানুষের আনন্দ দেখে।’

সাত বন্ধু ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে সিলেট থেকে ছুটে এসেছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। তাদের মধ্যে ছয়জন সেলফি, লোনাজলে সমুদ্রস্নান আর দুষ্টুমিতে মেতে রয়েছেন। তাদের একজন ইসলাম মাহমুদ। যিনি ব্যস্ত ছিলেন ড্রোন নিয়ে। বলেন, ‘ড্রোন ওড়িয়ে দেখছি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কত মানুষ হবে। কিন্তু ড্রোন যতই ওপরে তুলছি দেখছি ততই মানুষ। মনে হয়, দুই লাখের কাছাকাছি মানুষ হবে। ড্রোনের ছবি ও ভিডিও নিতে খুব ভালো লাগছে।’

পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে এসেছেন ব্যাংকার আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন কক্সবাজারে এসেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তেমন ভালো লাগেনি। আজকে দেখি চমৎকার আবহাওয়া। অনেক আনন্দ করছি।’

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, তিন দিনে অন্তত সাড়ে তিন লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন। মঙ্গলবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত কমবেশি পর্যটক থাকবে।

ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক থাকলেও স্নানরত অবস্থায় সৈকতে কোনো অঘটন ঘটেনি বলে জানান সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন লাখের বেশি পর্যটকের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, লাখের বেশি পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ২৭ জন কর্মী। তারপরও চেষ্টা ছিল। পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে পেরেই খুশি।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহেদ হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে হোটেল মোটেল জোন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এটা অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি বলেন, কক্সবাজার সৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধবিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও শহরের বার্মিজ মার্কেটসহ জেলার সবকটি বিনোদন কেন্দ্র আগত পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। যেখানেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত