অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষ করেছে বিশেষ কমিটি। এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে কমিটি। আগামী ২ এপ্রিল এই দীর্ঘ পর্যালোচনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার কমিটি সভাপতি জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিতর্কিত জুলাই সনদ বা সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ পর্যালোচনার পর অধিকাংশ অধ্যাদেশ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আমরা প্রায় ১২০টির বেশি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষ করেছি। কোনগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাখা হবে আর কোনগুলো বাতিল হবে, সে বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। তবে সুনির্দিষ্ট তালিকাটি চূড়ান্তভাবে ‘সর্ট-আউট’ করা হচ্ছে। আগামী ২ এপ্রিল দাখিলকৃত রিপোর্টের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এর বাইরে বাকি থাকা কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পরই পর্যালোচনার সব কাজ শেষ হবে এবং এগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদ আমাদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দলিল। এর ৩ নম্বর পেজের ৬-এর ক ধারা অনুযায়ী, সনদের ৮৪টি আর্টিকেলের মধ্যে ১ থেকে ৪৭ পর্যন্ত অংশ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য। যারা একে বাইপাস করে ভিন্ন কোনো আদেশ দিতে চায়, তারা সনদের পরিপন্থী কাজ করছেন। আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সব পদক্ষেপ নিচ্ছি। নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার দিকে তীক্ষè নজর রাখছি। ২ এপ্রিল রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর আইন পাসের প্রচলিত নিয়মেই বিলগুলো সংসদে উত্থাপিত হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় বা নির্দিষ্ট কোনো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ এই তালিকায় আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনই বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। মানবাধিকার কমিশন আইনের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। ওইদিন ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। গতকাল কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে ৮০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এএম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জিএম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
