নব্বইয়ের দশকের টেনিস বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্যাব্রিয়েলা সাবাতিনি ও স্টেফি গ্রাফের লড়াই। মাঠের সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে এবার ব্যক্তিগত জীবনের গোপন কিছু কথা সামনে এনেছেন সাবাতিনি। সাবেক নাম্বার ওয়ান কিম ক্লাইস্টার্সের সাথে এক আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছেন তার মোটরসাইকেল প্রেম এবং স্টেফি গ্রাফের সাথে বর্তমান বন্ধুত্বের কথা।
সাবাতিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গোপন শখের কথা বলতে গিয়ে জানান, টেনিস কোর্টের প্রবল চাপ থেকে বাঁচতে তিনি মোটরসাইকেল চালাতেন। তিনি বলেন, 'আমি মোটরসাইকেলে বা সাইকেলে চড়ে কোর্টে যেতাম। অনেক টুর্নামেন্টে আমি এটা করেছি। ইয়ামাহার সাথে আমার র্যাকেটের চুক্তি ছিল, তাই আমি তাদের কাছে মোটরসাইকেল চাইতাম। হামবুর্গ, সান ডিয়েগো বা মিয়ামিতে আমি ম্যাচ শেষ করে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যেতাম।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'চাপ থেকে দূরে থাকার জন্য সবসময় একটা মুহূর্তের প্রয়োজন হয়। মোটরবাইক আমাকে সেই স্বাধীনতা দিত। এটি ছিল নিছক আনন্দের সময়।'
স্টেফি গ্রাফের সাথে তার সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথ নিয়ে সাবাতিনি বলেন, গ্রাফ সবসময় তার সেরা খেলাটি বের করে আনতেন। যদিও গ্রাফ অধিকাংশ ম্যাচ জিততেন, তবুও তার বিপক্ষে খেলতে সাবাতিনি সবসময় উপভোগ করতেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, মাঠের সেই দুই শত্রু এখন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সাবাতিনি জানান, 'স্টেফি গ্রাফ এখন আমার খুব কাছের বন্ধু। আমরা এখন একটি 'গার্লস ট্রিপ' (মেয়েদের নিয়ে ভ্রমণ) আয়োজন করছি। আমরা একসাথে সময় কাটানো এবং ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা করছি।'
সাবাতিনি তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি অদ্ভুত মানসিকতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি এতটাই লাজুক ছিলেন যে, ম্যাচ জেতার পর সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার ভয়ে অনেক সময় সেমিফাইনালেই হেরে যেতে চাইতেন, 'আমি জানতাম ফাইনাল জিতলে আমাকে সবার সামনে কথা বলতে হবে। আমি এতটাই অন্তর্মুখী ছিলাম যে সেই পরিস্থিতি এড়াতে সেমিফাইনালে হারার কথা ভাবতাম। এটা ছিল এক পাগলামি।'
তবে সময়ের সাথে সাথে সাবাতিনি সেই লাজুকতা কাটিয়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে টেনিস বিশ্ব তাকে একজন আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব হিসেবেই চেনে।
নিজ শহরকে ১ লাখ পাউন্ডের ‘ইতিহাস’ উপহার দিলেন হালান্ড