কালোবাজারে পেট্রোল বিক্রি, ১৭ জনকে আসামী করে মামলা

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

জামালপুরে রাতের আঁধারে কালোবাজারে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে জনতার হাতে আটক ১১ জন ও  মুলহুতা সোহেল রানাসহ ১৭ জনকে আসামী করে মামলা  করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) দুপুরের দিকে পুলিশ সুপার মোছা.ফারহানা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলো- মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়রা এলাকার মো. মন্টু মিয়া (৬৫), একই উপজেলার শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ি এলাকার আল আমিন (৪৫), মেলান্দহ উপজেলার তেলিপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিম (৪০), সরিষাবাড়ি উপজেলার চরজামিরা এলাকার মো.জহুরুল ইসলাম (৪০), একই এলাকার শাহজামাল ওরফে জামাল উদ্দিন (৫০), মাদারগঞ্জ উপজেলার চরনগর এলাকার মো.মারুফ হোসেন (২৬), মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইন্দ্রবাড়ী এলাকার মারুফ হোসেন, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার উত্তর টেংরাকুড়া এলাকার মো.মোগল ড্রাইভার (৩৮), মেলান্দহ উপজেলার তেলিপাড়া এলাকার হামিদুর রহমান (৪০), সরিষাবাড়ী উপজেলার চরজামিরা এলাকার ফরহাদ মিয়া (৪০),  মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ এলাকার মো. আলতাবুর ওরফে পিপলু ড্রাইভার (৩৬), সরিষাবাড়ী উপজেলার চরজামিরা এলাকার স্বপন (হেলপার) (৪০), বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কটাপুর বাজার এলাকার মো.ফুল মিয়া (৩৮), একই উপজেলার টেংরাকুড়া এলাকার মো.মনির হোসেন ড্রাইভার (৩৪) ও জামালপুর সদর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার হাফিজুর রহমান (৪০)।
এ সময় কেন্দুয়া ইউনিয়নের গোপালপুর দামেশ্বর এলাকার নেপাল মিয়ার ছেলে মো.সোহেল রানা (৪০), সরিষাবাড়ী উপজেলার চরজামিরা এলাকার মো.জগলু মিয়া (৪৫) একই উপজেলার সেংগুয়া এলাকার মো.সবুজ মিয়া (৪০) নামে তিন আসামী পলাতক রয়েছে। এ মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করা হয়েছে।

 জানা যায়, সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী বাজার এলাকায় অবৈধভাবে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধার এবং একাধিক আসামী আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোছা.ফারহানা ইয়াসমিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বুধবার (২৫ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে কেন্দুয়া কালিবাড়ী বাজারের পাশে গোরস্থান মোড়ে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ৩ হাজার ১০ লিটার পেট্রোলসহ ১১ জনকে আটক করা হয়।

একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে পেট্রোল সংগ্রহ করে কালোবাজারে বিক্রি করে পাচার করছিল। স্থানীয় জনগণ সন্দেহভাজন গাড়ীগুলোকে থামিয়ে ৭ টি গাড়ীতে পেট্রোল ভর্তি ১৪টি ড্রাম ও একটি স্টিলের খালি ড্রাম জব্দ করেন। এতে ৩ হাজার ১০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৭০ টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি।  এ সময় একটি খালি স্টিলের ড্রাম, ২টি ব্যাটারিচালিত অটোগাড়ি, ৩টি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান, একটি নছিমন গাড়ি, একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৮০৭৯) জব্দ করা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত চলছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোছা.ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল কালোবাজারি করা একটি গুরুতর অপরাধ, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের কোনো তথ্য জানা মাত্র কাছের থানায় অবহিত করুন। আপনাদের সহযোগিতাই অপরাধ দমনে সবচেয়ে বড় শক্তি বলে তিনি জানান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত