২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র তিন মাস। তার আগে প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে বড়সড় এক ‘রিয়েলিটি চেক’ বা বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। এই পরাজয়ের পর সেলেসাওদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ ও শঙ্কিত ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার বোস্টনের ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১০ জনের ফ্রান্সের বিপক্ষেও সুবিধা করতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচের প্রায় ৪০ মিনিট একজন বেশি নিয়ে খেললেও হার এড়াতে পারেনি তারা। ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এস্পোর্তে লিখেছে, "ফ্রান্সের এই জয় তাদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ। বিশ্বকাপের আড়াই মাস আগে আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো মেনে নেওয়াই এখন সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ।"
ম্যাচটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদের দুই সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের লড়াই। দুর্দান্ত এক লব শটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস এই জয়কে অভিহিত করেছে "কচ্ছপের সাম্বা" হিসেবে। তারা মন্তব্য করেছে, ব্রাজিল এখনও এই জার্সির যোগ্য মানে পৌঁছাতে অনেক দূরে।
অন্যদিকে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা লিখেছে, "এমবাপ্পের ফ্রান্স ব্রাজিলকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দিয়েছে।" এমনকি আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলে-ও ব্রাজিলের এমন "ম্রিয়মাণ" পারফরম্যান্স নিয়ে রসিকতা করতে ছাড়েনি।
ব্রাজিলিয়ান বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রে আলিয়াত্তির মতে, দুই দলের দক্ষতার পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেন, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা এতটাই ছন্দে ছিল যে মনে হচ্ছিল তারা চোখ বন্ধ করেও পাস দিতে পারে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ছিল নড়বড়ে। সমালোচকদের মতে, এই ম্যাচে খেলা ডিফেন্ডারদের অনেকেরই মূল বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
রদ্রিগো কুটিনহো নামে আরেক কলামিস্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "ম্যাচের ১০ মিনিট পরেই ফ্রান্সের উপামেকানো লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লেও ব্রাজিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এটা সত্যিই চিন্তার বিষয়।"
ব্রাজিলের এই পরাজয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের দুর্বলতাগুলো বুঝতে পারা ব্রাজিলের জন্য আখেরে ভালোই হবে। তবে নেইমারকে নিয়ে গ্যালারিতে স্লোগান এবং ইনজুরি সমস্যা নিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল এখন বড় আলোচনার বিষয়।
