রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩নম্বর ফেরিঘাটে মর্মান্তিক ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ বাস দুর্ঘটনায় নিহত চালক আরমান খানের মরদেহ বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির পশ্চিম খালকুলা গ্রামের বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চরম অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে আরমান খানের পরিবারে। তিনি রেখে গেছেন বড় মেয়ে আমেনা খাতুন, সে শহীদ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে তায়েবা খাতুনের বয়স মাত্র ৫ বছর। এছাড়া তার স্ত্রী লাবনী খাতুন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা, যার চোখে এখন শুধু অশ্রু আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা।
স্ত্রী লাবনী খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঈদের দুই দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। বলেছিল ঈদের সাত দিন পর বাড়ি আসবে। কিন্তু বাড়ি তো ফিরল লাশ হয়ে। আমার সব শেষ হয়ে গেল।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আরমানের এমন অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সরকারিভাবে পরিবারের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতেও সরকারি বিধি মোতাবেক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
গত ২৫ মার্চ বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায় ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস।
