গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জামায়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে পৌর শহরের গৃধারীপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের বর্তমান সেক্রেটারি ও গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। এছাড়াও তিনি পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও ২০১৩-১৪ সালের পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ পলাশবাড়ী থানায় যান। পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে থানার ওসি সরোয়ারে আলম খানের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা ওসিকে দোকানটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। ওসি বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন বলে জানান। তখন পলাশ আহমেদসহ অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে ওসির শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে লাথি ও কিল-ঘুষি মারা হয়।
ওসিকে আক্রমণ ও মারধরে বাধা দিতে গেলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরাও মারধরের শিকার হন। এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের নয় সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ নামীয় ৯ জন ও অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ওই ঘটনার খবর পেয়ে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা থানায় যান। তাঁরা জানিয়েছেন, দলের কোনো কর্মী এই ঘটনায় জড়িত আছে কি না, তা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সারোয়ারে আলম খান বলেন, থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে ভোররাতে জামায়াত নেতা মিজানকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এ মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি।
