‘পাকিস্তান কাতার নয়’ ইসরায়েলকে কড়া জবাব ইসলামাবাদের

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

সম্প্রতি ইরানের রাজধানী তেহরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়। এসব হামলার কিছু অংশ পাকিস্তান দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের কাছাকাছি ছিল। তবে দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

টুইটারে পাকিস্তানি সাংবাদিক এবং অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, পাকিস্তান যে ইরানের সাথে আমেরিকার মধ্যস্থতা করিয়ে দিতে চাইছে, সেজন্যই হয়তো ইসরায়েল ‘পাকিস্তানি দূতাবাসে’ হামলা করতে চেয়েছে।

এই কথা সত্য যে ইসরায়েলের এই ধরনের কাজের রেকর্ড আছে। তারা এর আগে ফিলিস্তিন এবং ইরানসহ একাধিক দেশে বারবার মধ্যস্থতাকারীদেরকে হত্যা করেছে বা করার চেষ্টা করেছে। ফলে সম্প্রতি পাকিস্তান যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, এটা ইসরায়েলের অপছন্দই হওয়ার কথা।

তার উপর রয়টার্স একটা রিপোর্টে জানায়, আলোচনা সফল করার জন্য পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে ইসরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য, যেন তারা ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পীকার গালিবাফকে হিটলিস্ট থেকে সরিয়ে নেয়। ইসরায়েল সেটা করতে বাধ্যও হয়েছে। ফলে এই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে ইসরায়েল হয়তো ইচ্ছা করেই পাকিস্তানি দূতাবাসের আশেপাশে হামলা করেছে। হয়তো ভয় দেখানোর জন্য বা চাপ সৃষ্টি করার জন্য যেন পাকিস্তান আলোচনার উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত