চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন!

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সংকটের খবর পাওয়া গেছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামে বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার তেল না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। নগরের লাভলেইন এলাকায় এ্যাপোলে ১১ পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা গেল সেটির মূল ফটক বন্ধ। তবুও অকটেন নিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকছেন অসংখ্য মোটরসাইকেল চালক।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোল পাম্প আছে ৩৮৩টি। এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর আছেন ৭৯৯ জন। প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছেন ২৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরে পেট্রোল পাম্প আছে ৪৬টি। জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের বেশির ভাগ পেট্রোল পাম্পে মিলছে না অকটেন। যে কয়টি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে মোটর সাইকেলের দীর্ঘ লাইন, প্রায় সব পাম্প তেল দিচ্ছে ‘রেশনিং’ করে।

তবে নগরের গণি বেকারি কিউসি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বুধবার বিকাল সাড়ে চারটায় এই পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে শত শত মোটর সাইকেলের লাইন। সেখানকার একজন বিক্রয়কর্মী জানালেন, অন্য পেট্রোল পাম্প থেকে কিউসি সব সময় আলাদা। এখানে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। কিউসি পেট্রোল পাম্প থেকে অকটেন নিতে অপেক্ষা করছিলেন বাইক চালক ফরিদ হোসেন। তিনি বলেন, শহরের অনেক পেট্রোল পাম্প ঘুরে তেল কিনতে পারিনি। এখানে এসে ৩০ মিনিট ধরে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এই পাম্পের তেলের মান ভালো।

কিউসি পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক মীর খান জানান, ঈদের দিন ও পরের দিন পাম্প বন্ধ ছিল। গত সোমবার সকাল থেকে তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় জ্বালানি তেলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। যে যার চাহিদামত তেল নিতে পারছেন। ডিজেল-অকটেন পর্যাপ্ত আছে। যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ দেওয়া হবে।

বুধবার বিকেলে নগরের প্রবর্তক মোড়ের ফয়েজ আহম্মদ সন্স পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, রশি টেনে কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে লেখা ‘অকটেন নাই’। কখন পেট্রোল পাম্পটির রশি তুলে ফেলা হবে সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন বাইক চালক মাজিদ আলী। তিনি বলেন, বাইক নিয়ে জরুরি কাজে রাঙামাটি যাচ্ছি।কিন্তু ট্যাংকিতে তেল প্রায় শূন্য। সকাল থেকে অনেক পেট্রোল পাম্প ঘুরে তেল পাইনি।

জানা গেছে, ডিপো থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় নগরের কাতালগঞ্জ এলাকায় খান ব্রাদার্স পাম্প, নতুন পাড়ার বিআরটিসি পেট্রাল পাম্প, বালুছড়ার শিউলি পেট্রোল এবং অক্সিজেন এলাকার ওয়াজেদ আলী সন্স, বড়দিঘির পাড়ের ইসলাম ফিলিং স্টেশনও বুধবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। একই ভাবে তেল মিলছে না নগরের দামপাড়ার পুলিশ লাইন্স পাম্প, লালখান বাজারের এস  কে কাহম, সিআরবি মোড়ের  ফোর স্টার পাম্পেও।

জানা গেছে, নগরের ষোলশহরের ফোসিল ও পাঁচলাইশের পদ্মা অয়েল পাম্পে ২০০ টাকা করে  তেল দেওয়া হচ্ছে। বায়েজিদ  রোডের বেবী সুপার মার্কেটের বিপরীতে সেনা কল্যাণ পেট্রোল পাম্পে বাইক প্রতি ২০০ টাকার বেশি অকটেন দেওয়া হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করে কিউসি পেট্রাল পাম্পের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর তেলের চাহিদা ১০ শতাংশ করে বাড়ে, এবার পাম্পের চাহিদার বিপরীতে ১০ শতাংশ করে তেল কম দেওয়া হচ্ছে ডিপো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে অভিমত তার। 

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক সভাপতি এহসানুর রহমান চৌধুরী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল মিলছে না। এজন্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তেলের অভাবে আমরা গ্রাহকদের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন চৌধুরী বলেন, তেলের ঘাটতি আছে। তবে মানুষ মানুষ আতঙ্কিত হয়েও বেশি তেল নিচ্ছে। এতেই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত