মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশী রবিদাস (১৪) নামে এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয় চা শ্রমিকদের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলা এলাকার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস গত বৃহস্পতিবার রাতে তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। সুস্থ-সবল একটি মেয়ের হঠাৎ এমন মৃত্যুতে চা বাগান এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে শত শত চা শ্রমিক ও এলাকাবাসী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হন। তারা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসপাতাল ও এর আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ জনতা শান্ত হয়।
নিহত ঐশীর বাবা বাবুল রবিদাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েটা শুধু মাথাব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে তাকে হারাতাম না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
শমশেরনগর চা বাগানের বাসিন্দা মোহন রবিদাস বলেন, ‘মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করেন। গতকাল সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও চিকিৎসক তাকে অন্যত্র রেফার্ড করেননি। এ হাসপাতাল চা শ্রমিকদের একমাত্র ভরসার স্থল ছিল। চিকিৎসকের অবহেলায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
তবে শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘চা শ্রমিক সন্তান ঐশীকে এক মাস আগে এই হাসপাতালে নিয়ে এলে তখন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছিল। এক মাস পর গত বৃহস্পতিবার আবারও অসুস্থতা নিয়ে তাকে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল আউয়াল জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
