এমবাপ্পের কাছেই হেরে গেল ব্রাজিল

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবোরোর জিলেট স্টেডিয়ামকে শুরু থেকেই মারাকানার রূপ দিয়ে রেখেছিলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। ৬৬ হাজার দর্শক ধারণ সম্পন্ন স্টেডিয়ামের বেশিরভাগই ছিল হলুদ আর্মিদের দখলে। তবে মাঠে সেই দখলদারিত্ব দেখাতে পারেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা। প্রীতি ম্যাচে ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে কাল আনচেলত্তির দলকে হারতে হয়েছে ২-১ ব্যবধানে। এই ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে পৌঁছানোর শেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বৃহস্পতিবার রাতে বাঁ পায়ের হাঁটুর চোটের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই মাঠে নেমেছিলেন ফরাসি তারকা। ম্যাচের শুরুতেই দ্রুতগতিতে বল নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন তিনি। দেশের হয়ে নিজের ৫৬তম গোলটি করার পর এমবাপ্পে এখন অলিভিয়ে জিরুকে ছুঁয়ে ফেলার অপেক্ষায়।

অথচ এই ম্যাচটা বড় পরীক্ষাই নিয়েছে ফরাসিদের। আধ ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের খেলতে হয়েছে ১০ জন নিয়ে। প্রতিপক্ষের দুর্বলতা অবশ্য কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। এমবাপ্পের পর হুগো একিটিকে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। ৭৮ মিনিটে ব্রেমার গোল করে ব্রাজিলের হারের ব্যবধান শুধু কমিয়েছেন। এ জয়টা ফ্রান্সের জন্য বিশেষ। কারণ ফক্সবোরোতেই বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের মুখোমুখি হবে তারা।

৮০ লাখ ডলারের নিরাপত্তা ব্যয় নিয়ে ফক্সবোরো শহর কর্র্তৃপক্ষ এবং বিশ্বকাপ আয়োজকদের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। যদিও কোনো দৃশ্যমান ঝামেলা ছাড়াই প্রীতি ম্যাচটি সম্পন্ন হয়। দুই সপ্তাহ আগে দুপক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে আয়োজক কমিটি অগ্রিম অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং শহর কর্র্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বিনোদন লাইসেন্স অনুমোদন করে।

জিলেট স্টেডিয়ামে কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য এটি ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতি; এর চেয়ে বেশি দর্শক হয়েছিল শুধু ২০০৭ সালে ব্রাজিল বনাম মেক্সিকোর একটি প্রীতি ম্যাচে। ব্রাজিল ফিরেছে বলেই গ্যালারি জুড়ে ছিল হলুদ জার্সি পরা দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতি। অথচ সেই হলুদ উৎসব লহমায় থামিয়ে দেন এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা গত ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন। তবে জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি খেলা চালিয়ে যান এবং এরপর প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে থাকেন। রিয়াল মাদ্রিদের শেষ দুটি ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও, বৃহস্পতিবার তিনি শুরু থেকেই খেলেন এবং ম্যাচের ৩২ মিনিটে অসাধারণ ফিনিশে নিজের সেরাত্বের ছাপ রাখেন। নিজেদের অর্ধ থেকে উসমান ডেম্বেলের ডিফেন্সচেঁড়া থ্রু পাস ধরতে ভোঁ-দৌড়ে মার্কারদের পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের গোল্ডেন বুট বিজয়ী তারকা বলটি আগুয়ান ব্রাজিল গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে জালে জড়িয়ে দেন। ৫৫ মিনিটে নিশ্চিত গোলের পথে থাকা একজন খেলোয়াড়কে ফাউল করার জন্য ফ্রান্সের দায়োত উপামেকানোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ভিডিও রিভিউ দেখে রেফারির এ সিদ্ধান্তের পরও ফ্রান্সকে রোখা যায়নি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে গোল করে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিভারপুলের এ মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা একিটিকে। লুইস হেনরিকের ক্রস থেকে ব্রেমার বল জালে জড়ালে ব্যবধান কমায় ব্রাজিল (২-১)।

ফ্রান্সের কাছে হারে ব্রাজিলের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তিকে ভাবতে হচ্ছে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম অস্ত্র রাফিনিয়ার চোট নিয়ে। আনচেলত্তি ম্যাচ শেষে জানান, পেশির সমস্যার কারণে প্রথমার্ধেই তুলে নেওয়া হয়েছিল রাফিনিয়াকে। বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় রাফিনিয়ার চোট টেকনিক্যাল স্টাফদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্সা তারকার ফ্রান্সের রক্ষণভাগে স্বভাবসুলভ ‘অফ-দ্য-বল’ মুভমেন্টগুলো দ্বিতীয়ার্ধে অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্স ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার সেটি আরও বেশি করে বোঝা গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্ডো দেপোর্টিভোর মতে, বার্সেলোনাও রাফিনিয়ার চোট নিয়ে শঙ্কায় আছে। তাদের মেডিকেল টিম ইতিমধ্যেই রাফিনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আশঙ্কা করছে যে, তিনি এমন কোনো চোটে পড়েছেন যা তাকে বেশ কিছুদিনের জন্য মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিতে পারে।

এই হারটি এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে যেখানে ভক্তরা দলে নেইমারের অনুপস্থিতি নিয়ে সেøাগান দিচ্ছিল। তবে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ম্যাচ শেষে নেইমারের থাকা না থাকা নিয়ে কথা বলতে চাননি, ‘এই মুহূর্তে আমাদের তাদের নিয়েই কথা বলতে হবে যারা এখানে আছে, যারা খেলেছে, যারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে, যারা দৃঢ়তা দেখিয়েছে এবং কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমি সন্তুষ্ট। আমার মনে হয় খেলাটি আমার কাছে খুব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। এ বিষয়ে অন্তত আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

১০ জন নিয়েও ব্রাজিলের মতো দলকে হারানোয় সন্তুষ্ট ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম। এমবাপ্পের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘এমবাপ্পের ইনজুরি এখন পুরোপুরি অতীত। কিলিয়ান দেখিয়ে দিয়েছে সে কতটা ধারালো। তার গোলটি ছিল বিশ্বমানের এবং সে পুরো ম্যাচ জুড়েই ছন্দে ছিল।’ ৩৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলাটা সহজ ছিল না। দলের মানসিক শক্তির প্রশংসা করে দেশম বলেন, ‘১০ জন নিয়ে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লিড ধরে রাখা সহজ ছিল না, রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আমি খুশি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত