বিশ্বকাপ থেকে এক পা দূরে ইতালি

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

২০২২ সালে কপাল পুড়িয়েছিল নর্থ মেসিডোনিয়া, তারও ৪ বছর আগে সুইডেন। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ ইতালি শুধুই দর্শক। পরপর দুটো আসরের বাছাইপর্বে প্লে-অফ থেকে ছিটকে গেছে আজ্জুরিরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৮। তাতে করে ইউরোপ মহাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে ১৩ থেকে হয়েছে ১৬। তারপরও সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বাছাইপর্বে নরওয়ের কাছে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষস্থান খুইয়ে ফের প্লে-অফে ইতালি। এবারের প্লে-অফে দুটো ধাপ। যার প্রথমটি বৃহস্পতিবার রাতে পেরিয়েছে তারা। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বের আরও কাছে পৌঁছে গেছে জেনেরো গাত্তুসোর শিষ্যরা। মঙ্গলবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে হারাতে পারলেই ১২ বছর পর বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন হবে ইতালির।

বৃহস্পতিবার রাতটা ছিল ইউরোপের অনেকগুলো দলের জন্যই বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণী রাত। আগের বিশ্বকাপগুলোর বাছাইপর্বে হতো দুই লেগের প্লে-অফ ম্যাচ। যেখানে প্রথম লেগে হারলেও দ্বিতীয় লেগে ফিরে আসার সুযোগ থাকত। এবার থেকে নকআউট। হারলেই শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন। যেমনটা শেষ হয়ে গেছে রোমানিয়ার, তুরস্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে। বেসিকতাস পার্কে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের্দি কাদিওগ্লুর গোলে এগিয়ে যায় তুরস্ক। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে আর্দা গুলেরের লম্বা লব দুই ডিফেন্ডারের মাঝ থেকে বের হয়ে ধরে ফেলেন কার্দিওগ্লু, এরপর ঠা-া মাথায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাপা শটে পাঠিয়ে দেন জালে। এই একটা জাদুকরী মুহূর্তই রোমানিয়ার স্বপ্ন ভেঙেছে আর তুরস্ককে তুলে দিয়েছে প্লে-অফের পরের পর্বে, যেখানে তাদের অপেক্ষায় সেøাভাকিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে আসা কসোভো।

ইতালির জন্যও বেরগামো স্টেডিয়ামের রাতটা ছিল বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণী। এই রাতে ইতালিকে বৈতরণী পার করালেন নিউক্যাসল মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালি। ভাগ্য আইরিশদের বিপক্ষেই ছিল, না হলে পলিতানোর ক্রসটা ক্লিয়ার করতে গিয়ে আইজ্যাক প্রাইস বল তুলে দেন তোনালির পায়ে। চলতি বলে তোনালির জোরালো শটটা ঠেকাবার সাধ্য ছিল না নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক পিয়ার্স-চার্লসের। গোলহীন প্রথমার্ধের পর ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ইতালির প্রথম গোল। দ্বিতীয় গোলটাতেও ভাগ্যের ছোঁয়া। তোনালি উঁচু করে বাড়িয়েছিলেন ময়েজ কিনের দিকে, মার্কারের পাহারায় কিন বলের নিয়ন্ত্রণ ভালো ভাবে নিতে পারেননি। বামপায়ের গড়ানো শটটা গোলবারের বাইরে দিয়েই চলে যাওয়ার কথা, পোস্টে লেগে ভেতরে ঢুকে গেল। ২-০ গোলের জয়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্লে-অফের শেষ স্টেশনে ইতালি, বিশ্বকাপ আর তাদের মধ্যে এখন এডিন জেকোর বসনিয়া হার্জেগোভিনা। যারা ওয়েলসকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্লে-অফের শেষ পর্বে পৌঁছে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে ইতালির মতো তাদের শেষ বিশ্বকাপ স্মৃতিও ২০১৪’র ব্রাজিল। সেটাই ছিল বসনিয়ার একমাত্র বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। ইতালি এবং বসনিয়ার প্লে-অফে যে দল জিতবে, তারাই ২০১৪’র পর এবার প্রথম খেলবে। ওয়েলসের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের জয় বসনিয়ার। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫১ মিনিটে ড্যানিয়েল জেমসের গোলে এগিয়ে যায় ওয়েলস, ৮৬ মিনিটে সেই গোল শোধ করে দলকে সমতায় ফেরান ৪০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এডিন জেকো। ম্যানসিটি, ইন্টার মিলান-সহ ইউরোপের শীর্ষ লিগের দলগুলোতে খেলা জেকো প্রমাণ করলেন, এখনো ফুরিয়ে যাননি। জেকোর সমতা ফেরানো গোলেই নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। ওয়েলসের জনসন ও উইলিয়ামস শুটআউটে গোল করতে ব্যর্থ হলে শেষ শটে বসনিয়ার আইয়াজবেগোভিচ গোল করে থামিয়ে দেন ওয়েলসের বিশ্বকাপ অভিযান।

দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ছিল চেক প্রজাতন্ত্র ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটাও। পেনাল্টি, আত্মঘাতী গোল, সবশেষে টাইব্রেকার। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ভিএআর দেখে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি, স্পটকিকে গোল করে প্যারট। কয়েক মিনিট পর কোভার হেড করে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ঢুকিয়ে দেন নিজেদের জালে। ২৩ মিনিট শেষে আয়ারল্যান্ড ২-০ চেক প্রজাতন্ত্র। এরপর ২৭ মিনিটে নিজেদের বক্সে ক্রেচিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন রায়ান ম্যানিং, সেই সঙ্গে দলের বিপক্ষে পেনাল্টিও দিয়ে বসেন। স্পটকিকে গোল করে ব্যবধান কমান প্যাট্রিক শিক। এত কিছু হয়ে গেছে ম্যাচের ২৭ মিনিটেই! এরপর লম্বা সময় ধরে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, অবশেষে ৮৬ মিনিটে ক্রেচির গোলে ২-২ সমতা। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে, বাড়তি ৩০ মিনিটে কোনো গোল হলো না। অগত্যা পেনাল্টি শুট আউট। গোলরক্ষক মাতেই কোভার দুটো শট বাঁচানোর পর নির্ধারণী শটে ইয়ান ক্লিমেন্টের গোল বাঁচিয়ে রেখেছে চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপ খেলার আশা। আয়ারল্যান্ডকে বিদায় দিয়ে তারা এখন অপেক্ষায় আছে ডেনমার্কের, যারা নর্থ মেসিডোনিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৪-০ গোলে। পোল্যান্ড ২-১ গোলে হারিয়েছে আলবেনিয়াকে আর সুইডেন ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইউক্রেনকে।

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ইউরোপিয়ান বাছাই অঞ্চলের প্লে-অফের শেষ ম্যাচ ডে। এই দিনে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা খেলবে ইতালির বিপক্ষে, সুইডেনের প্রতিপক্ষ পোল্যান্ড, তুরস্কের প্রতিপক্ষ কসভো আর চেক প্রজাতন্ত্রের প্রতিপক্ষ ডেনমার্ক। জয়ী দল পা রাখবে বিশ্বকাপে আর হেরে যাওয়া দলকে এবারও দর্শক হয়েই থাকতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত