জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত সরকারের এমন আশ্বাসের পরও প্রায় এক মাস ধরে দেশ জুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। কোথাও ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। চাহিদামতো মিলছে না জ্বালানি তেল। সংকটটা মূলত পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে। অথচ এ দুটি পণ্যের অর্ধেকের বেশি উৎপাদন হয় দেশে। তাহলে কেন এ সংকট? কেনইবা তেল নিতে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে?
খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, মূলত জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণেই এমন সংকট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সেই সংকট আরও বেড়েছে আতঙ্কে চাহিদার অতিরিক্ত তেল কেনার ফলে। পাশাপাশি সরকার মুখে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের কথা বললেও, বাস্তবে কৃত্রিম সংকট এড়াতে সরবরাহ করা হচ্ছে কিছুটা কম।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর বিপিসিকে অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে জ্বালানি তেল আমদানিতে। সরকার প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও বিদ্যুৎমন্ত্রী এর আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন, আপাতত দেশে বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। বরং গত বছরের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছে। সেই সঙ্গে কালোবাজারিও হচ্ছে। অনেকেই তেলের অবৈধ মজুদ করছে। কালোবাজারিরা মজুদ করে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিষয়গুলো নিয়ে সরকার যথেষ্ট কনসার্ন।
তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম না বাড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তেল নিয়ে যারা কারসাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
যুদ্ধের জের ধরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকট চোখে পড়লেও সরকার বলছে, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে পারলে’ বাংলাদেশকে সংকট স্পর্শ করতে পারবে না। একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখনই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি খাতের জন্য অতিরিক্ত অর্থের সংস্থানে এরই মধ্যে আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার বলছে সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে জ্বালানি তেল নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তার মানে কোথাও একটা ঘাপলা বা মিসিং আছে। সে বিষয়টা সরকারকে দ্রুত খুঁজে বের করে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাছাড়া বর্তমান যে সংকট, সেজন্য তো সরকার দায়ী নয়। ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ জ্বালানি নিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তাহলে আমাদের সেটা করতে সমস্যা কোথায়? সরকারকে প্রকৃত বাস্তবতা জনগণকে জানানো দরকার। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও সাশ্রয়ী এবং সচেতন হওয়া উচিত।’
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের জন্য মোটরসাইকেলে জ্বালানির সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয়।
গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার। তবুও ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের অনেক জায়গায় তেল না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সমস্যার বড় অংশ সরবরাহ চেইনে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, পেট্রোল-অকটেন দেশেই উৎপাদিত হয়। বেসরকারি কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিটগুলো দাম বাড়ার আশায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, মজুদ ঠিক রাখতে কিছুটা রেশনিং করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। না হলে তো দ্রুত সব তেল শেষ হয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতো এতদিনে। তাছাড়া কোনো কারণে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কিংবা হুট করে কোনো চালান আটকে গেলে যেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তাও দেখতে হবে।
অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি : সংকটের এ সময়ে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করেছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি। দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় তেল পরিবহনকারী লরি থেকে তেল বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেই সঙ্গে অবৈধ মজুদেরও প্রমাণ মিলেছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। এ সময় সেখানে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুদকৃত আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত তেল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল অপসারণ করে তা বিভিন্ন স্থানীয় বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করে থাকে।
জ্বালানি তেল মজুদ রেখে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি না করার অভিযোগে গতকাল দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মেসার্স বাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ফিলিং স্টেশনটিতে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুদ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর শহরের একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় ২৫ হাজার লিটার তেলের ট্যাংক বানিয়ে ডিজেল মজুদ করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে সেখানকার ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একদিনের মধ্যে মজুদকৃত তেল ও ট্যাংক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরের গোয়ালপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।
সাম্প্রতিককালে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, যা জ্বালানি তেলের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কারসাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান : সরকার জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকি করতে ইতিমধ্যে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুদদারি বন্ধে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব : বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ এবং ধাপে ধাপে তা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে জরুরি বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়েছে। এতে ভর্তুকি কতটা কমবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে কী প্রভাব পড়বে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউনিটপ্রতি খরচ ২৭ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা বড় চাপ তৈরি করছে।
গ্যাস সংকট ও এলএনজি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যয় আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপ ও আসন্ন আইএমএফ বৈঠক সামনে রেখে ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। গ্রাহকস্বার্থ ও অর্থনৈতিক চাপ দুদিক বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ভারত থেকে এলো ৫ হাজার টন ডিজেল : জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও মজুদ স্বাভাবিক রাখতে গতকাল ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইন দিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে সরবরাহ করা হয়েছে।
আজ শনিবার থেকে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে সরবরাহ শুরু হবে। এ তেল এসে পৌঁছাতে সময় লাগবে তিন দিন।
জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) এবং আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের (এনআরএল) কাছ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ১৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে।
পাশাপাশি সরবরাহ ঠিক রাখতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিপিসির কর্মকর্তারা।
মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাস জুড়ে তেলবাহী যত জাহাজ এসেছে এবং আরও যে কয়টি ইতিমধ্যেই নিরাপদ জোনে এসে পৌঁছেছে, সেগুলো ঠিকমতো বন্দরে এসে পৌঁছালে এপ্রিল মাসেও জ্বালানি নিয়ে কোনো সংকট হবে না বলে সরকার আশা করছে।
আজ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা : দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার (আজ) থেকেই জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে সংগঠনটি। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য যে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে, তা অনভিপ্রেত।
সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনা এবং পাম্পে অযথা ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। এ অবস্থা সামলাতে সাধারণ গ্রাহকদের অবশ্যই সংযত হতে হবে।’
জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্চ মাসে অধিক মাত্রায় সরকারি ছুটি থাকায় জ্বালানি তেলের ধারাবাহিক সরবরাহ প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের বেশ কিছু জায়গায় পাম্প সাময়িকভাবে তেলশূন্য হয়ে পড়েছিল। তবে এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
জনস্বার্থে সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়েছেন পাম্প মালিকদের এ শীর্ষ নেতা।
ডিজেলের চাহিদা বেশি, ঘাটতি কম : দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ডিজেল; ৬২ শতাংশ। দেশে চলমান জ্বালানি সংকটে ডিজেল নিয়ে ভোগান্তি তুলনামূলক কম। অনেক পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল না মিললেও ডিজেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। অকটেন ও পেট্রোলের তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় ডিজেল সংগ্রহে দুর্ভোগ কম।
ডিজেল বেশি ব্যবহৃত হয় দূরপাল্লার গাড়িতে। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির নিজস্ব পাম্প অথবা কোনো পাম্পের সঙ্গে চুক্তি থাকায় চাহিদা অনুসারে তারা তেল পাচ্ছে। তবে একসঙ্গে এই তেল মিলছে না। দু-তিনবারে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
ডিজেলের মজুদ ক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক বিক্রি ছিল সাড়ে ৪৩ লাখ টন। সেই হিসাবে মাসিক চাহিদা ৩ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দৈনিক গড় চাহিদা ১২ হাজার টন।
তবে চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টনে দাঁড়িয়েছে। গত ২১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৯ টন ডিজেল মজুদ ছিল। দৈনিক সরবরাহ করা হচ্ছে ১২ হাজার ৭৭৭ টন।