রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো এখনো অনেকটাই ফাঁকা। তবুও স্বস্তি নেই দামে। মুরগির পাশাপাশি খাসির মাংসের দাম চড়া। তেল সংকটের অজুহাতে ঊর্ধ্বমূখী সবজির বাজার। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, উৎসবের কারণে ছুটির মধ্যে পরিবহনের ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সবকিছুর দাম কমে যাবে বলে মনে করছেন তারা। তবে ঈদ-পরবর্তী মাংস-সবজির চড়া দাম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা।
ঈদকে সামনে রেখে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিন সাধারণ ছুটি ছিল। ছুটি শেষে গত মঙ্গলবার অফিস খুললেও ২৬ মার্চ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অনেক অফিসে আবার ছুটি রয়েছে। ফলে এখনো অনেক পরিবার ঢাকায় ফেরেনি। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, রামপুরা কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকান বন্ধ। খোলা থাকা দোকানগুলোতেও ভিড় নেই। বিক্রেতারা জানান, বাজারে বেচাকেনা কম। ক্রেতা নেই বলে বাজারে পণ্যের সরবরাহও তুলনামূলক কম।
রোজার শুরুতেই প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৪০-১৫০ টাকা। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে দাম চড়ে যায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হয়েছে ২২০-২৩০ টাকা। এখন কিছুটা কমে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকায়। রোজা শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা।
ঈদের পর কেজিতে আরও ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ধরনভেদে প্রতি কেজি সোনালি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০-৪০০ টাকায়। ঈদের আগে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। এখন কেজিতে ১০০ টাকার মতো দাম কমেছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়। খাসির দামও বাড়তি রয়েছে। রোজার শুরুতে বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় কেনা যেত। ঈদের আগে এ দাম কেজিতে ১৫০-২০০ টাকা বেড়ে যায়। ঈদের পর দাম সামান্য কমলেও এখনো চড়া; এক কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরা বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা আবু জাফর বলেন, মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এই দাম আরও কিছুদিন থাকবে। সামনে কোরবানির ঈদ। এর মধ্যে গরুর দাম যদি না কমে তাহলে হয়তো মাংসের দামও আর না-ও কমতে পারে।
মুরগির দাম না কমার কারণ হিসেবে মোহাম্মদপুর মার্কেটের ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, ঈদের পর চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ব্যাপারীরা মুরগি কম আনছেন।
এটাকে অজুহাত বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রামপুরা বাজারের ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী কাররুল আহসান। তিনি বলেন, ঈদের আগে ৩৫০ টাকায় সোনালি মুরগি কিনেছিলাম। এখন ৪০০ টাকায় কিনলাম। ব্রয়লার মুরগিরও দাম এখনো চড়া। নানা অজুহাতে তারা (বিক্রেতা) দাম বাড়ায়।
চাহিদা কম থাকলেও দাম কমেনি সবজির। ঈদের ছুটির আগে প্রতি কেজি শসার দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে টমেটো। ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই কিনছেন ক্রেতারা।
এ ছাড়া প্রতি কেজি শিম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, ছোট আকারের প্রতিটি মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০, গাজর ৪০ থেকে ৫০, ধুন্দল, ঝিঙে চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৮০, পটোল প্রতি কেজি ৭০, করলা প্রতি কেজি ৮০, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিক সামান্য বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। ঈদের আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকার মধ্যে। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে ফার্মের ডিমের দাম খানিকটা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম বাজারভেদে ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
