সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

ভূমধ্যসাগর হয়ে বোটে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা গ্রিস উপকূলরক্ষী বাহিনীকে এ তথ্য জানিয়েছেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক রয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন উপকূলরক্ষী বাহিনী। এ ছাড়া মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বলে নিশ্চিত করেছেন ওই বোটের যাত্রী একই উপজেলার রোহান আহমদ (২৫)। গতকাল শনিবার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান তিনি।

সুনামগঞ্জের নিহত চারজন হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ওরফে ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) এবং একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তারা উত্তর আফ্রিকা থেকে রাবারের নৌকায় সমুদ্রপথে ইউরোপ যাচ্ছিলেন। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক রয়েছেন।

দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য এওর মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের চারজনই তার আত্মীয়। শনিবার বিকেলে ওই বোটে থাকা গ্রামের আবদুল কাহারের ছেলে রোহান আহমদ ফোনে বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করেছেন। রোহান জানিয়েছেন, বোটে খাবার ও পানির সংকটে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে অনেকেই মারা যান। তাদের মধ্যে এই চারজন আছেন। মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সাহান এহিয়ার ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা দেন। লিবিয়া যাওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ ছিল না। গতকাল বিকেলে রোহান ফোনে দিরাই উপজেলার চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত