বাংলাদেশে কৃষিতে উপকরণ সরবরাহ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজার উন্নয়নে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম এ আগ্রহের কথা জানান। এদিন তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন জেলার ১১টি ব্লকে এ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। এ সময় মন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানান।
বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মিস দিনা উমালি-ডাইনিঙ্গার-সহ অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন বিশ^ব্যাংকের এই প্রতিনিধি দল সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যারা প্রতিমাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। মন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে, যেই কার্ড হবে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে। এটি নাগরিক হিসেবে একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি।
জঁ পেম বর্তমান সরকার কর্তৃক পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুর উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
