বিসিবি নির্বাচনে ভোট ঠিকই হয়েছে : ফারুক

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:২৫ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ২০২৫-এ ব্যাপক অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্তে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়সীমার ভেতরেই তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে, এমনটাই আশাবাদ তদন্ত কমিটির একজন সদস্যের। দেশ রূপান্তর-এর সঙ্গে আলাপে তিনি জানিয়েছেন, ১১ মার্চ তদন্ত কমিটি গঠনের পর সোমবার ষষ্ঠ কার্যদিবস অতিবাহিত হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের ভেতর এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, বাকি ৯ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলেই জানিয়েছেন ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির এই সদস্য।

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটিতে আছেন জনপ্রশাসন, পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধি, আছেন একজন আইনজীবী ও সাংবাদিকও। তদন্ত কমিটি নির্বাচনের সঙ্গে যেসব ব্যক্তি ও সংস্থা জড়িত ছিল, অর্থাৎ প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বিসিবি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যোগাযোগ করছে। তদন্ত চলমান থাকায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছেন না তদন্ত কমিটির সদস্যরা, তবে তাদের কাছ থেকে জানা গেছে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোথায় কী সমস্যা হয়েছে সেটাই তারা খুঁজে বের করতে চাচ্ছেন। বাকি ৯ কার্যদিবসে পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেই আশাবাদ কমিটির একজন সদস্যের।

গত ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরিতেই সরাসরি প্রত্যক্ষ ভোটাভুটি হয়েছে, জেলা ও বিভাগ থেকে বেশিরভাগ পরিচালকই নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ৭৬ জন ভোটার, ভোট দিয়েছেন ৪৩ জন। তাদেরই একজন প্রথম বিভাগের ক্লাব শেখ জামাল ক্রিকেটার্স-এর কাউন্সিলর মেহতাব উদ্দিন আনোয়ার আহমেদ জানালেন, তদন্ত কমিটি তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি, ‘আমার সঙ্গে তদন্ত কমিটি এখনো কোনো রকম যোগাযোগ করেনি, শুনেছি তারা পরিচালকদের ডাকছে।’ ক্যাটাগরি-৩; অর্থাৎ সাবেক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক, বিশেষ সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাটাগরিতে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেবব্রত পাল। তিনি সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের কাছে ৩৫-৭ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। দেশ রূপান্তরকে দেবব্রত জানিয়েছেন, ‘তদন্ত কমিটি আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। আমাকে যদি ডাকা হয় তাহলে আমি হাজির হয়ে আমার পর্যবেক্ষণগুলো জানাব।’ ভোটের দিনে ব্যালট গণনার সময় দেবব্রত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনেক যুক্তিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন।

তদন্ত কমিটি কথা বলেছে বিসিবি’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে। গণমাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে ফারুক বলেছেন, ‘তদন্ত কমিটি আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় জানতে চেয়েছে। জানতে চেয়েছিল যে আমার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটায় দেরি হয়েছিল কেন। এটা আমি বলেছিলাম যে ৪টা দলের আমি কাউন্সিলর, এর মধ্যে একটা দল ছিল, এদের একটা অভিযোগের ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছিল, উনাদের রায় দিতে দেরি হয়েছিল, আমি রায় পেয়েছিলাম ৭টার সময়। এরপর ওখান থেকে যারা ছিলেন প্রেসিডেন্ট, সিইও...তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে যেহেতু আমার দেরি হয়েছে সে জন্য ২ ঘণ্টা দেরিতে জমা দেওয়ার, এজন্য পরের দিন আবার আমাকে নির্বাচন কমিশনারও ডেকে ছিলেন, ওখানেও আমাকে বলতে হয়েছে কেন দেরি হয়েছে। একই কথাই আমি তাদের (তদন্ত কমিটর সদস্যদের) বলেছি, এক্স্যাক্টলি কী কারণ।’

নির্বাচনে কারচুপির প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমি বলেছি যে এখানে তো কোনো প্রতিপক্ষই ছিল না। এখানে আসলে ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা...কেমনে হবে। এখানে ভোটার ছিল মনে করেন ৭৬টা। এই ভোটের মধ্যে ৪২টা ভোট কাস্ট হয়েছে, যেটায় আমি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলাম। এমনিতেই ৩৪টা ভোট নেই এখানে, যেহেতু প্রতিপক্ষ নাই ওখানে ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা খুব কম, নাই-ই। আমার মনে হয় ভোটাভুটি যেটা হয়েছে ঠিকই হয়েছে।’

বিসিবি’র পরিচালনা পর্ষদ থেকে ২ জন পরিচালক, ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন পদত্যাগ করেছেন। আমজাদ পদত্যাগ করার পর বলেছেন নির্বাচনে আরও স্বচ্ছতা আসতে পারত। ফারুক মনে করেন, এই বক্তব্য পদত্যাগ করার আগে এলে ভালো হতো, ‘একজন, দুইজন বলেছেন যে নির্বাচনটা আরও স্বচ্ছ হতে পারত। এটা পদত্যাগ করার আগে বললে ভালো হতো। আর হাত খুলে মন খুলে কাজ করতে পারছেন না, এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত