বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আকস্মিক পরিদর্শন

সচিব রুমে নেই এসি চলছে, বন্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

সচিব নেই অথচ তার রুমের এসি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজ হাতে অফিসের এসি বন্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার সকালে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সচিবের রুমের এসি বন্ধ করেন। দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একাধিক কর্মকর্তা।

তারা জানান, সচিবালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজ দপ্তরে না গিয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো অফিসে আসছেন কি না তা যাচাই করতে তিনি বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর ঘুরে দেখেন। এ সময় বেশির ভাগ দপ্তরের সচিবরা অফিসে পৌঁছাননি। অথচ তাদের রুমের এসি চলছে, লাইট জ¦লছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজ হাতে এসি বন্ধ করেন। লাইট নিভিয়ে দেন। জানালার পর্দা সরিয়ে আলো আসার ব্যবস্থা করে দেন নিজেই। এ সময় উপস্থিত সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, দেশপ্রেম অন্তর থেকে আসতে হবে। এটা বলে আনা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি নিজেও কয়েকটি কক্ষের লাইটের সুইচ বন্ধ করে দেন।

সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে হাঁটতে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাঁটতে হাঁটতে তিনি চলে যান সচিবালয়ের অন্য প্রান্তে অবস্থিত ৬ নম্বর ভবনে। সেখানে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর হেঁটে বিল্ডিংটির ষষ্ঠতলা পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে যান ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ে। বিল্ডিংয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর বিল্ডিংয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এভাবে সচিবালয়ের অন্তত আটটি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে তিনি তার দপ্তরে যান। এ সময় এসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা থাকলেও সচিবরা অনুপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এই পরিদর্শনের সময় সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাড়তি তৎপরতা লক্ষ করা যায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকালও অন্যদিনের মতোই বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করেন তারেক রহমান। পরে দুপুরে তিনি সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে সচিবালয় থেকে সংসদে যান।

কৃষক কার্ডের অগ্রগতি জানলেন প্রধানমন্ত্রী : সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ফার্মারস কার্ড সম্পর্কিত একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে অংশ নেন। সভায় ‘কৃষক কার্ড’ চালুর বিষয়ে গঠিত কমিটির সর্বশেষ অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির স্বচ্ছতা ও সঠিক কৃষকদের কাছে সেবা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা। আগামী ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখ টাঙ্গাইল থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত ১০ মার্চ দেশের ৩৭ হাজার পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ফ্যামিলি কার্ড’। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের চার কোটি পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেবে সরকার। এর সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে বলে সেদিন ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছি। একইভাবে আগামী মাসের ভেতরে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত