মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে অস্থিরতার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার। দেশের কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকার কার্যক্রম চালাচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জ্বালানির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্মসচিব মুনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চোক পয়েন্ট’। বিশ্বে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবাহিত হয়, তার একটি বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে প্রণালিটি কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মুনির হোসেন জানান, এ পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ ও উৎস খুঁজতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জ্বালানি তেল আনার সুযোগ তৈরি করা যায়। এ বিষয়ে ইরান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে এবং পরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহ করে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হলে সরবরাহ চেইনে বড় চাপ পড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ফুয়েল পাস চালুর উদ্যোগ: ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, চলমান সংকটের মধ্যে জ¦ালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ফুয়েল পাস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিউআর কোডভিত্তিক এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট যানবাহনকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া হবে।
কৃষিতে অগ্রাধিকার : ডিজেল সরবরাহে কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুনির হোসেন। তিনি জানান, ‘আমরা ক্লিয়ার নির্দেশনা দিয়েছি যে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মজুদদারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত : জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও মজুদদারি ঠেকাতে দেশ জুড়ে জোরদার অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে সরকার। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদ- ও জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানান মুনির হোসেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিদিন ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। এছাড়া পাম্প, ডিপো, এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
