খুলনা-যশোর-সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ৩৫-৪০ বছর ধরে এই জলাবদ্ধতা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সমস্যাটি ক্রমশ তীব্র হচ্ছে এবং এর পরিধি আরও ব্যাপক এলাকায় বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে দেখা দিচ্ছে নিচু বসতি এলাকায় আবাসন সংকট, ধান ও মাছ চাষে ব্যাপক বিপর্যয় এবং কর্মসংস্থানের সংকট। জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় এ অঞ্চলের নদ-নদী খনন ও জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) পদ্ধতি চালু করার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ ও পানি কমিটি।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনগণের পক্ষে বলা হয়, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অববাহিকাসমূহে দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ, টিআরএম বিলের অধিবাসীরা যাতে সহজে ক্ষতিপূরণ পায় তার ব্যবস্থা করা এবং সব কর্মকা-ে জনগণ ও অন্যান্য অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
লিখিত বক্তব্যে প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ পলি দ্বারা নদী ভরাট হয়ে যাওয়া। যার ফলে বর্ষা মৌসুমের পানি পোল্ডারের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বছরে ৬ থেকে ৯ মাস এমনকি কোনো কোনো বিল সারা বছর জলমগ্ন থাকে। এর ফলে দেখা দেয় নিচু বসতি এলাকায় বসবাস সংকট, ধান ও মাছ চাষে ব্যাপক বিপর্যয় এবং কর্মসংস্থানের সংকট।
পলি সমস্যার কারণে উপকূলীয় নদীগুলো ক্রমশ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। যশোর অঞ্চলের টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা ও হরিহর, শিবসা ও কড়–লিয়া নদী এবং সাতক্ষীরা জেলার কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, সাপমারা, লাবণ্যবতী, গলঘেষিয়া ও খোলপেটুয়া প্রভৃতি নদীগুলোতে বর্ধিত হারে পলি জমে দ্রুত মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। সুন্দরবনের বনভূমি ও নদী খালগুলোতে ব্যাপক হারে পলি জমে পরিবেশের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।
অপরদিকে ব-দ্বীপ ভূমি ক্রমশ বসে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ সমস্যা তীব্র হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০০২ সালে বিল কেদারিয়ায়, ২০০৬ সালে খুকশিয়া বিলে এবং ২০১৫ সালে কপোতাক্ষ অববাহিকায় তালা উপজেলার পাখিমারা বিলে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হয় যার ফলে সংশ্লিষ্ট ওই সব এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখন সব অববাহিকায় টিআরএম কার্যক্রম বন্ধ আছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাশেম আলী ফকির, মো. রেজাউল করিম, সেলিম আক্তার স্বপন, জিল্লুর রহমান সম্পাদক, শেখ মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
