হরমুজ ইস্যুতে ইউরোপকে কঠোর বার্তা ইরানের

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসণে হস্তক্ষেপ না করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সতর্কতা জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিয়ো কস্তাকে ফোনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, এই ধরনের আগ্রাসনে অংশ নেওয়া কোনো দেশকে গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে এবং আগ্রাসী রাষ্ট্র ও তাদের সমর্থকদের জাহাজের জন্য এটি প্রবেশযোগ্য হবে না। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে ইরানের প্রতি নেতিবাচক ও নির্মাণহীন মনোভাব পরিত্যাগ করে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পরামর্শ দেন। 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অভূতপূর্ব এবং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবিকৃত নীতির সঙ্গে পুরোপুরি বিরোধপূর্ণ। ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত থাকা সত্ত্বেও হামলার শিকার হয়েছে, যা দেখাচ্ছে আগ্রাসীরা আলোচনার চেয়ে চাপ প্রয়োগকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, হরমুজ প্রণালীসহ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শত্রুভাবাপন্ন কর্মকাণ্ড। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে ধ্বংসাত্মক নীতি থেকে বিরত হয়ে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মিলিয়ে নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। 

অপর দিকে, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা উল্লেখ করেন, এই সংঘাতের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সমর্থন দেয়নি এবং শান্তিপূর্ণ, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী সায়েদ খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। হামলায় দেশব্যাপী সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান আঘাত দেওয়া হয়, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে দখলকৃত এলাকায় ও আঞ্চলিক ঘাঁটিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত