ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের কলেজছাত্রীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হওয়ার আগেই আবার লাউর ফতেহপুর থেকে নাহিদা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা মিনুয়ারা বেগম বাদী হয়ে রবিবার নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাঁচ বছর আগে নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর গ্রামের শিশু মিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গাঙ্গেরকোট গ্রামের খলিল মিয়ার মেয়ে নাহিদা আক্তারের বিয়ে হয়। বর্তমানে এ দম্পতির ৪ বছর বয়সী এক ছেলেসন্তান রয়েছে। বিয়ের বছরখানেক পর থেকেই নাহিদাকে তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। এ অবস্থায় স্বামী তানভীর বছর তিনেক আগে প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি তিনি পুনরায় দেশে ফিরে এলে, আবারও সংসারে ঝগড়া-বিবাদ বাড়তে থাকে। মৃত্যুর আগেও নাহিদাকে তিনি মারধর করেছেন বলে অভিযোগ জানান তারা।
নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সেটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে মৃতের মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে নবীনগর থানায় মামলা করেছেন। স্বামী পলাতক রয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন।
গাঙ্গেরকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল মাস্টার বলেন, নাহিদা আমার ছাত্রী। সে নম্র-ভদ্র ছিল। হত্যা করার পর ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি পাবে।
