শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. আহসানুল হক মিলন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সরাসরি (অফলাইন) ও অনলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে একটি ‘মিশ্র শিক্ষাদান ব্যবস্থা’ চালুর ভাবনা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে সৃষ্ট ঘাটতি মোকাবিলায় এই উদ্যোগকে ‘সমন্বিত পদ্ধতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন তিনি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুধু ঢাকা মহানগরেই কার্যকর করা হবে। তবে ঢাকা মহানগরের সব ধরনের স্কুল ও মাদ্রাসা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। সব প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে তা অবশ্যই অভিনন্দনের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।যানজট ও জ্বালানি সংকটের এ মহানগরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময় ভাগাভাগি করে নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের সময় নির্ধারণে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ জরুরি বলে মত দিচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা। একই সময়ে সব শিক্ষার্থী স্কুলে না ছুটে গেলে যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে তারা মনে করেন।
শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি এক আলোচনায় বলেন, আমরা অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছি। যেহেতু এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংকট এবং এই পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা আমাদের জানা নেই। তাই আমাদের স্কুলগুলোকে অফলাইনের আওতায় এনে সশরীরে ও অনলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত (ব্লেন্ডিং) পদ্ধতি চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবছি। তিনি আরও বলেন, সপ্তাহে আমাদের পাঁচ দিন ক্লাস ছিল। এখন আমরা কিছু শিক্ষাঘণ্টা হারিয়েছি, রোজার ছুটি এবং বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন-টান্দোলন সব মিলিয়ে। তাই স্কুল এখন সপ্তাহে ছয় দিন করছি। তবে এর মধ্যে জ্বালানি-সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে, আমরা এখন ভাবছি যে- ব্লেন্ডিং করা যায় কি না।
শিক্ষামন্ত্রীর এ ভাবনা ইতিবাচক বলে মনে করছেন অনেকে। তারা বলছেন, সমন্বিত কারিকুলামের বিষয়েও ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধর্মশিক্ষা, আরবি ভাষা ও কোরানিক শিক্ষাকে সাবসিডিয়ারি করতে হবে। সেই সঙ্গে ইংরেজি, ফার্সি, স্প্যানিশ, ফ্রেন্স, রুশ, চৈনিক, জাপানি, কোরিয়ান ভাষা শিক্ষাকেও সাবসিডিয়ারি করে দেয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের চাহিদা ও লক্ষ্যপূরণের জন্য যে ভাষা শিখতে চায়, তাতে তাদের পারদর্শী করে গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের হাতিয়ার হিসেবে ভাষাকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রেও ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে প্রস্তাবিত পাইলট প্রকল্প শুধু ঢাকা মহানগরীতে সীমাবদ্ধ রাখার প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ঢাকা মহানগরের বাইরে শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক বেশি। আপাতত প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এই সমন্বিত ব্যবস্থার অন্তর্গত না হলে বৈষম্যের শিকার হবে প্রান্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষ করে গ্রামের গরিব ছেলেমেয়েরা বৈষম্যের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রান্তিক শিশু, কিশোর ও যুবকেরা যেন এই সমন্বিত শিক্ষা থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে নজর দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
লেখক: কবি-সাংবাদিক