বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। বননির্ভর হাজারো মৌয়ালের জীবিকার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারসহ সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (১ এপ্রিল) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে সুন্দরবনে চলতি বছরের মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এ সময় তিনি বলেন, সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই বন রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকাও নিরাপদ রাখা আমাদের দায়িত্ব। মৌয়ালরা যেন ঝুঁকিমুক্তভাবে মধু সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আগে দুপুরে খুলনা থেকে স্পিডবোটযোগে তিনি বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট ঘাটে পৌঁছালে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী মৌয়ালদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় মৌয়ালরা বাঘের আক্রমণ, বনদস্যুদের ভয় ও সার্বিক নিরাপত্তা সংকটের বিষয় তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, সুন্দরবনে মৌয়াল, বাওয়ালি ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হবে এবং বনদস্যুদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও বেগবান করা হবে। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বনদস্যু দমনে অভিযান কার্যক্রমের সূচনা করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দিনের শেষভাগে বিকেলে প্রতিমন্ত্রী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুমড়ো খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই খাল খননের মাধ্যমে স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাসানুর রহমান, ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রাজিব হায়দার, বিএনপি নেতা রহমতুল্লাহ পলাশ, জি এম মনিরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম প্রমুখ।
