এই ম্যাচ কি করে হারলো আফঈদারা!

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

দুই অর্ধে সাগরিকার অসাধারণ দুই গোলে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখেছিল জয়ের। তবে মাত্র ১০ মিনিটে থাই ঝড়ে ছারখার হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন। তিন ডিফেন্ডারের তিন ভুলে অনূর্ধ্ব-২০ ওমেন্স এশিয়ান কাপের শুরুর ম্যাচটা বাংলাদেশ স্বাগতিক থাইল্যান্ডের কাছে হেরেছে ৩-২ ব্যবধানে। পাতুমথানির পানাসাথ স্টেডিয়ামের সাগরিকার কীর্তির পর সুরভী আফরিন ও নবিরণ খাতুন স্বাগতিকদের দুটি পেনাল্টি উপহার দেন। দুটিকেই গোলে পরিণত করেন থাই মেয়েরা। এরপর নেতৃত্ব হারানো আফঈদা খন্দকারের ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিক মেয়েরা। তাতে অভাবিত এক জয় মুঠো থেকে গলে বের হয়ে যায় বাংলাদেশের। অথচ ম্যাচটা জিতলে অভিষেকেই কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে যেত বাংলাদেশ। এখন পরের দুই ম্যাচে চীন ও ভিয়েতনামের মতো প্রবল দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কতটা সুবিধা করতে পারবে তারা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। 

ম্যাচের শুরু থেকে থাইল্যান্ড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বাংলাদেশ একটু সময় নেয় গুছিয়ে উঠতে। তবে বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারের কৃতিত্বে গোলের শুরুতে দেখা পায়নি থাইল্যান্ড। ম্যাচের ১৬ মিনিটে ফ্রি কিক আটকাতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিলি আক্তার, বল তার গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুরূহ কোণ থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের শট লক্ষ্যে থাকেনি। ২৬ মিনিটে থাইল্যান্ডের এক ফরোয়ার্ডের দূরপাল্লার প্রচেষ্টা ফিস্ট করে ফেরান মিলি। 
বাংলাদেশ ধারার বিপরীতে গোল পায় ৩৫ মিনিটে। থাইল্যান্ডের হাই-লাইন ডিফেন্সে সুযোগে অসাধারণ গোল করেন সাগরিকা। নিজেদের অর্ধ থেকে মমিতা খাতুনের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে দ্রুতগতিতে প্রতিপক্ষের সব ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বক্সে ঢুকে থাই কিপারের পাশ দিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। 

পিছিয়ে পড়ে কিছুটা হলেও ম্যাচের তাল-লয় হারিয়ে ফেলেছিল থাইল্যান্ড তাতে নিজেদের আরও গুছিয়ে নেওয়ার সময় পায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও সতীর্থের লং পাস পেয়েছিলেন সাগরিকা। তবে এবার আর থাই রক্ষণের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি সাগরিকা। বিরতি থেকে ফিরে অবশ্য ফের আনন্দে ভাসান সাগরিকা। ৫০ মিনিটে উমহেলা মারমার নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। 

সাগরিকার জোড়া গোলের পর মিলির একের পর এক সেভে জয়ের স্বপ্নটা বড় হচ্ছিল বাংলাদেশের। তবে ৬৭ মিনিটে উল্টোপথে হাঁটা শুরু তাদের। বক্সে এক বাজে ট্যাকলে থাইল্যান্ডের ফরোয়ার্ডকে ফেলে দেন সুরভী আফরিন। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান কুরিসারা। এর কিছুক্ষণ পরেই অপ্রয়োজনীয় ট্যাকলে থাইল্যান্ডের পিচায়াতিদাকে ফেলে দিয়ে সর্বনাশ ডেকে আনেন নবিরণ। পেনাল্টি থেকে এবার মিলিকে পরাস্ত করেন মনডং। এই গোলের কিক অফ থেকে তৃতীয় গোল তুলে নেয় থাইল্যান্ড। আফঈদা মাদিসনের পায়ে বল তুলে দেন ভুল পাসে। মাদিসন থ্রু বাড়ালে তা পেয়ে বক্সে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করেন পিচায়াতিদা। তাতেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সঙ্গী হয় বাংলাদেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত