রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গৃহবধূ তাসলিমা হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিচয় এর পর নিহিত তাসলিমা আসামির কাছ থেকে ব্যবসার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই টাকা নিয়ে বাগ বিতান্ডের পর তাকে খুন করে আসামি রাজু।
আজ বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ রাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নিহত তাসলিমা (৩৪) তার স্বামী রশিদ আহমেদ বাপ্পীর সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ সায়েদাবাদের একটি ভবনের সপ্তম তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ বিকেলে আসামি আব্দুল্লাহ রাজু তাসলিমার বাসায় যান। একপর্যায়ে জরুরি কথা বলার কথা বলে তাকে ছাদে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা ছাদে গিয়ে তাসলিমাকে গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বোন সুরভী আক্তার দিয়া যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ওসি রাজু জানান, ঘটনাস্থল থেকে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাসলিমার সঙ্গে আসামি রাজুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা ব্যবসার জন্য রাজুর কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা নেন। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। ঘটনার দিন টাকা চাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাসলিমাকে আঘাত করে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
