আরেকটি ফাইনাল চোখ রাঙাচ্ছে অতীত

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ এএম

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল মানেই ভারতের জয়জয়কার। এই তেতো সত্যটা না মেনে উপায় নেই বাংলাদেশের সমর্থকদের। সেটা সিনিয়র হোক কিংবা বয়সভিত্তিক। ৯টি ফাইনালের আটটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এ রকম বাস্তবতা মাথায় নিয়ে আজ আরেকটি সাফের ফাইনালে মুখোমুখি দু’দল। মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা লড়াইয়ে দেখা হচ্ছে দুই দলের। গ্রুপের লড়াইটা ছিল ১-১ অমীমাংসিত। আজ আর সে সুযোগ থাকছে না। এক দল হাসবে শিরোপার হাসি, আরেক দলের সঙ্গী হবে কান্না। অতীতে পরিসংখ্যান ধরলে এই ফাইনালে ভারতই থাকবে ফেভারিট।

সিনিয়র সাফে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলেছে তিনবার। এর মধ্যে ২০০৩ সালে ঢাকায় ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মালদ্বীপ। ভারতকে সেমিফাইনালেই বিদায় করেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথম এবং একমাত্র শিরোপা ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। শিরোপা জেতার সুযোগ ছিল এর আগে পারেও। তবে দু’বারই বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে শিরোপা উৎসব করে ভারত। ১৯৯৯ সালে গোয়ায় ফাইনালে স্বাগতিক ভারত জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে। ২০০৫ সালে করাচীতেও একই পরিণতি মেনে নিতে হয় বাংলাদেশকে। দুর্দান্ত প্রতাপে ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশ ভারতের কাছে হার মানে একই ২-০ ব্যবধানে।

সিনিয়র দলের মতো বয়সভিত্তিক দলগুলোর পরিণতিও একই রকম। ২০১১ সাল থেকে বয়সভিত্তিক সাফের আসর আয়োজন শুরু হয়। বাংলাদেশ ১০টি ফাইনাল খেলে জিতেছে মাত্র তিনটিতে। ভারতের বিপক্ষে আগের সাত ফাইনালের ছয়টিতেই হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। যে কোনো সাফের আসরে একবারই ভারতকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফের ফাইনালে জয়টা এসেছিল টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় জিতে।

অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৭  এই তিন বয়স বিভাগে নিয়মিতই ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। পাঁচ ফাইনালে দুটিতে জিতেছে তারা। ২০১৫ সালে হারানোর পর ২০১৮ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ সাফের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যথাক্রমে অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৭ সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে হার মানতে হয় বাংলাদেশকে।

অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ সাফের ফাইনালেও ভারতে বারবার হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। এই তিন বয়স ক্যাটাগরিতে হওয়া সাত আসরের পাঁচটি ফাইনালে ছিল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব, তবে জয় এসেছে মাত্র একবার। এর মধ্যে ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ফাইনালে নেপালের কাছে হারতে হয় তাদের। ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের কাছে হারে ২-১ ব্যবধানে। ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ আসর হয়েছিল ভারতে। ফাইনালে বাংলাদেশকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের সেমিফাইনালেই ভারতকে টাইব্রেকারে বিদায় করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। সেই হারের প্রতিশোধ নিতে দেরি করেনি ভারত। গত বছর নিজেদের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের ফাইনালে ভারতীয়রা ট্রাইবেকারে বাংলাদেশকে কাঁদায়।

পরিসংখ্যান তাই কোনোভাবেই বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছে না। তবে মার্ক কক্সের অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে তো চলবে না। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে মেজাজ হারিয়ে লালকার্ড দেখতে হয়েছিল বাংলাদেশ কোচকে। সেমিফাইনালেও তাই ডাগআউটে থাকতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আজ ডাগআউট থেকে দল পরিচালনা করবেন কক্স। ফাইনাল জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ব্রিটিশ কোচ বলেন, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। বিশেষ করে এই আর্দ্রতায় এটি করা সহজ নয়। তবে আমি তাদের জয়ের ইচ্ছা ও মনোযোগ দেখে খুবই সন্তুষ্ট। আমাদের গত কয়েক দিন বেশ ভালো কেটেছে। আমরা যেভাবে খেলাতে চাই, খেলোয়াড়রা আমাদের সিস্টেম এবং নীতিগুলো বুঝতে পারছে। এটি একটি প্রক্রিয়া, তবে আমি প্রতিদিন উন্নতি দেখতে পাচ্ছি। আগামীকাল (আজ) আমাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমার ভাবনায় একটি কৌশল রয়েছে, যা আমার দলকে সাহায্য করবে বলে মনে করি এবং এটি দলের জন্য ভালো হবে। কৌশলটি আমি এখনই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি না। আমি ডাগআউটেই (বেঞ্চে) থাকব, মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হব না। শান্ত থাকা, ভালো আচরণ করা এবং খেলোয়াড়দেরই তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে কথা বলতে দেওয়া এটাই আপাতত আমার মূল কৌশল।’

নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে আসা বাংলাদেশকে শিরোপা জিততে তাকিয়ে থাকবে দলের আক্রমণভাগের দিকে। রোনান সুলিভান, নাজমুল হুদায় ফয়সাল, মোর্শেদ আলীদের আজ খেলতে হবে নিখুঁত ফুটবল। সেই সঙ্গে মিঠু চৌধুরী, শহীদুল্লাহদের দায়িত্ব নিজেদের ঘর সুরক্ষিত রাখা। তবেই অতীতের পরিসংখ্যানকে ভুল প্রমাণ করা যাবে। নইলে ভুটানকে ৫-০ তে উড়িয়ে ফাইনালে আসা ভারতই হাসবে শেষ হাসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত