সাফে নারীরা অনেক শিরোপা এনে দিয়েছে। কিন্তু পুরুষ ফুটবলাররা কালে ভদ্রে এই শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পেরেছে।
আরেকবার সেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলো বাংলাদেশ ভারতকে ফাইনালে হারিয়ে।
মালেতে রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এর আগে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট সাতবার। এর মধ্যে চারবার সেরা হয়েছে ভারত। নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশ একবার এই শিরোপা জিতেছে। ২০২৪ সালে প্রথম এই শিরোপা জিতে বাংলাদেশ। ২০২৫-এ ভারতের কাছেই ফাইনাল হেরে গিয়েছিলা। সেই ভারতকে হারিয়েই শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো বাংলাদেশ।
অমীমাংসিত ৯০ মিনিট
একটি পরিবর্তন এনে সেরা একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ মার্ক কক্স। সানি দাসের বদলে শুরু থেকে খেলান আব্দুল রিয়াদ ফাহিমকে। নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে বদলি হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন ডেকলান সুলিভান, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই ডিফেন্ডারকে বেঞ্চে রাখেন বাংলাদেশ কোচ।
ডেকলানের ভাই রোনান নিয়মিতই খেলছেন লাল-সবুজের জার্সিতে। ভারতের বিপক্ষেও শুরু থেকে আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সপ্তম মিনিটে বাম দিক থেকে রোনানের বাম পায়ের দুর্বল শট পারেনি গোলকিপারকে পরাস্ত করতে।
ভারতের রোহেন সিং ডান প্রান্ত ধরে একের পর এক বি
পদজনক ক্রস ফেলতে থাকেন বক্সে, কিন্তু রক্ষণের দৃঢ়তায় বিপদে পড়েনি বাংলাদেশ।
১৩ মিনিটে রোনানের ক্রসে বক্সের ভেতরে অনেকটা লাফিয়ে মিঠু চোধুরি হেড লক্ষে রাখতে পারেননি। দুই মিনিট পর মানিকের বক্সে ফেলা বলে দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে পা চালিয়েছিলেন রোনান, কিন্তু পাননি বলের নাগাল।
৩৬ মিনিটে কর্নারের পর ছোট বক্সের উপর থেকে ঋশিকান্ডা শরীর ঘুরিয়ে ভলি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রক্ষণের বাধায় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। কামাল মৃধার ক্লিয়ারেন্সের পর জদরিক আব্রানাচেসের দুর্বল হেড সহজেই গ্লাভসে জমান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থের নিচু পাস বুটের টোকায় তুলে সাইড ভলি করেছিলেন রোনান, কিন্তু বল উড়ে যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই, কিন্তু কেউই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেনি।
ভারতের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশ গোলকিপার ইসমাইলের জন্য দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারেনি।
৬৫ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের বদলি নামেন ডেকলান। ৮২ মিনিটে ভারতের একটি প্রচেষ্টা উপরের জাল কাঁপায়ে। একটু পরই গোলমুখ থেকে বিশাল যাদব টোকা দিতে ব্যর্থ হলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বাকি সময়ে কেউ গোলের দেখা না পাওয়ায় ফাইনালের ভাগ্য গড়ায় শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকার নাটক
টাইব্রেকারে ভারতের ঋষি সিংয়ের প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকান ইসমাইল হোসেন মাহিন। বাংলাদেশের হয়ে টানা তিন গোল করেন মুর্শেদ আলি, চন্দন রায়, আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। ভারতের মোহাম্মদ আরবাস, স্যামসন ও বিশাল যাদব গোল করলে স্কোর দাড়ায় ৩-৩। বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল রাকসাম। তখনই ভারত গোলকিপার সুরজ সিং ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে শুয়ে পড়লেন মাটিতে। বাংলাদেশের মোমেন্টাম কিছুটা নষ্ট হয়ে গেল সেখানেই। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে পোস্টে ফেরন সুরজ। স্যামুয়েল রাকসামের শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে। কিন্তু পঞ্চম শট নিতে এসে ভারতের ওমং দোদুম মারে বাইরে। বাংলাদেশ তখন তাকিয়ে রোনান সুলিভানের দিকে। নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। জয়ের উচ্ছ্বাসে বাঁধনহারা উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।
