নেইমার নাকি ‘সাবেক নেইমার’: নিজের প্রদীপে নিজেই বন্দি এক জাদুকর

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এখন একটাই প্রশ্ন—নেইমার কি থাকছেন, নাকি থাকছেন না? লুকা মদ্রিচের বয়স ৪০, কিন্তু তিনি এখনো মাঠের ‘সিইও’ বা কন্ডাক্টর। অন্যদিকে নেইমার, যিনি মদ্রিচের চেয়ে ছয় বছরের ছোট, তিনি এখন নিজের ছায়া হয়ে বেঁচে আছেন। সান্তোসের হয়ে রেমোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি যেমন জাদুকরী পাস দিয়ে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন, তেমনি অহেতুক বিতর্ক আর হলুদ কার্ড দেখে নিজের বিশ্বকাপ যাত্রা সংকুচিত করেছেন।

মদ্রিচ বনাম নেইমার: এক যোজন ব্যবধান

সম্প্রতি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর কার্লো আনচেলত্তি মজা করে মদ্রিচকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোমার কি কোনো ব্রাজিলিয়ান দাদা আছে?” এই রসিকতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর হাহাকার। ব্রাজিলের বর্তমান প্রজন্মে মদ্রিচের মতো কোনো ‘মস্তিষ্ক’ বা গেম-ডিক্টেটর নেই। নেইমার সেই অভাব পূরণ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি এখন মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কেই বেশি ব্যস্ত।

বিতর্কের রাজা ও আইনি জটিলতা

রেমোর বিপক্ষে ম্যাচের পর রেফারির বিরুদ্ধে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক’ মন্তব্য করে বড় বিপাকে পড়েছেন নেইমার। তার করা ‘চিকো’ মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কঠোর সমালোচিত হয়েছে। এই মন্তব্যের কারণে ব্রাজিলের স্পোর্টস জাস্টিস কোর্ট তাকে ৫ থেকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে। এর আগে একই অপরাধে ব্রাগান্তিনোর গুস্তাভো মার্কেসকে ১২ ম্যাচের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। রেফারির বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে এখন তাকে ৫ থেকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হতে পারে, যা কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় তাকে রাখা কঠিন করে তুলবে।

আনচেলত্তির ‘বারেন ল্যান্ডস্কেপ’

কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখন ব্রাজিলের মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করছেন। কাসেমিরো, ফাবিনিয়ো বা ব্রুনো গিমারেসের মতো রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার থাকলেও আক্রমণভাগে নেইমারের বিকল্প হিসেবে তিনি ম্যাথিউস কুনহাকে ‘নাম্বার ১০’ পজিশনে ব্যবহার করছেন। পকেতা, এনড্রিক এবং ইগর থিয়াগোদের নিয়ে যখন চূড়ান্ত দল সাজানোর পরিকল্পনা চলছে, তখন নেইমার যেন এক ‘ভ্যাগুয়ে রিফ্লেকশন’ বা অস্পষ্ট প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছেন।

৪০ দিনের অগ্নিপরীক্ষা

আগামী ১৩ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। হাতে আছে মাত্র ৪০ দিন। এই সময়ের মধ্যে নেইমারকে প্রমাণ করতে হবে তিনি এখনো সেই ‘জাদুকর’ যিনি ম্যাচ জেতাতে পারেন, নাকি তিনি কেবল একজন বিতর্কিত মহাতারকা।

মদ্রিচ তার পঞ্চম বিশ্বকাপের অপেক্ষায়, আর নেইমার তার চতুর্থ বিশ্বকাপে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—ব্রাজিল কি আসল নেইমারকে পাবে, নাকি সেই ‘সাবেক নেইমার’ তকমাটাই তার গায়ে চিরস্থায়ী হয়ে যাবে?

সূত্র: ও গ্লোবো ও ডেইল মেইল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত