বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁ‌ধে ভোগান্তির শঙ্কা!

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকুলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধের কাজ চলমান থাকলেও আগামী বর্ষায় ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে জনভোগান্তির আশংকা করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় জনগণ বর্ষার আগে উল্লেখিত স্থানে জরুরী ভিত্তিতে কাজ পরিচালনা করার আহ্বান জানান। বর্তমানে বাঁশখালীর উপকুলীয় বেড়িবাঁধের জন্য ৪৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তাতে বাহারছড়া, ছনুয়া, সাধনপুর, খানখানাবাদ চার ইউনিয়নে ৬ দশমিক ২১০ কিলোমিটার সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষার কাজ করা হচ্ছে। সাঙ্গু মোহনায় ১৩০০ মিটার পুরোনো বাঁধ শক্তিশালী (সংস্কার) করা । যা বিগত ২০২৪ সালের ২৭ মে একনেক সভায় আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলায় সাগর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভাঙন প্রতিরোধে ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। তার মধ্যে বাঁশখালীর বাহারছড়া, ছনুয়া, সাধনপুর, খানখানাবাদ চার ইউনিয়নে ৬ দশমিক ২১০ কিলোমিটার সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ৪৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। যার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

৯১ এর ২৯ এপ্রিলের প্রলংয়করী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে বাঁশখালীর উপকুলীয় এলাকার কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং শতশত বাড়িঘর বিলীন হওয়ার পর বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবী উঠলে বাঁশখালীর উপকুলের ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কারের অংশ হিসাবে প্রথম পর্যায়ে ২০১৫ সালের ১ মে থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কাল ধরে ২০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে নির্মাণ সামগ্রী দাম বাড়া ও ঠিকাদারদের আপত্তির মুখে ২০১৫ সালে বাঁধ নির্মাণে ২৫১ কোটি ২৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার অনুমোদন দেয় সরকার। এরপর তা আবারো বাড়িয়ে ২৯৩ কোটি টাকা করা হয়। ৩৪ প্যাকেজে প্রকল্পের আওতায় ঢাল সংরক্ষণসহ বাঁধ নির্মাণ এবং নদী তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, সমুদ্রের লোনা পানির প্রবেশ রোধ এবং নদী ভাঙন রোধ কাজ করা হলেও তাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তবে সে সব কাজে যারা ঠিকাদারি এবং সাব ঠিকাদারি করে কোটি কোটি টাকা তছনছ ও অনিয়ম করেছে তারা আবার ও নতুন করে চলমান কাজের ঠিকাদারি ও সাব ঠিকাদারিতে সুযোগ পেয়েছে বলে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ।

এদিকে বর্তমানে চলমান এ কাজ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদন করতে পারলে জনভোগান্তি অনেক কমে আসবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (বাঁশখালী) অনুপম পাল। তিনি বলেন অতীতের সকল ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এবার ভালভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে রয়েছি । আশা রাখি স্থানীয় জনগনসহ সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতা করলে যথা সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। অপর‌দি‌কে ভাঙ্গা ও ঝু‌ঁকি‌তে থাকা খানখানাবাদের প্রেশাশিয়া এলাকার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্পের বর্তমান কাজে অন্তর্ভুক্ত নেই, প্রকল্পের কাজের বাইরে। আপাতত জিওটিউব দিয়ে অস্থায়ীভাবে ক্ষ‌তিগ্রস্ত প‌য়েন্ট টা মেরামত করা হচ্ছে ব‌লে তি‌নি জানান।

এদিকে গত কয়দিন আগে বাঁশখালীর খানখানাবাদের প্রেশাশিয়া এলাকার উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য কাজের গুণগত মান ঠিক রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বারবার বরাদ্দ দেয়া হলেও কাজের মান ঠিক না থাকায় বেড়িবাঁধ টেকসই হয়নি। যার ফলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ বারবার জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। নয়তো বর্ষা মৌসুমে মানুষ আবারও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলবাসীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। সুতরাং বেড়িবাঁধ প্রকল্প নিয়ে কাউকেই নয়ছয় করার সুযোগ দেয়া হবে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত