শত শত ফ্রিল্যান্সারের প্রেরণার উৎস ফারুক

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম

তারুণ্য মানে না কোনো বাধা। সে যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সদা প্রস্তুত। তেমনি এক অদম্য তরুণ মো. ফারুক হোসেন। বয়স মাত্র ২৮। কুমিল্লার এই তরুণ গড়ে তুলেছেন ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর প্রতিষ্ঠান এক্সপার্ট আইটি পার্ক। এখান থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছেন। ফলে তারা যেমন নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন, তেমনি দেশের জন্য নিয়ে আসছেন হাজার হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

একদিনে এই সফলতা আসেনি। ফারুক একসময় ছিলেন সেলসম্যান। অভাবের সংসার চালাতে হতো ধারদেনা করে, এমনকি সন্তানের দুধ কেনার টাকার জন্যও হিমশিম খেতে হতো তাকে। কিন্তু স্বপ্ন হারাননি। ফেসবুক ও ইউটিউবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন জানতে পারেন অনলাইনে ফ্রিলান্সিং কাজ করে আয় করা যায়। সেই কৌতূহল থেকেই শুরু হয় তার ফ্রিল্যান্সিং যাত্রা। বন্ধুরা খেলাধুলা ও আড্ডায় ব্যস্ত থাকলেও তিনি ল্যাপটপে রাত-দিন কাজ করতেন। দিনে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করেছেন, কখনো দুটো সেদ্ধ ডিম খেয়ে রাত পার করেছেন, আবার কখনো টানা কয়েক রাত মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন।

মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে ওয়েব ডিজাইনের একটি কোর্স করেছিলেন, কিন্তু মন টিকল ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে। সেই পথেই এগোলেন তিনি। প্রথম আয় ছিল মাত্র পাঁচ ডলারজ্বা একটি ফেসবুক পেজ খোলার জন্য। কিন্তু সেই সামান্য আয় তাকে নতুন স্বপ্ন দেখায়। মায়ের এনজিও থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকার ঋণ শোধ করার চাপ তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। শুরুটা ছিল ২০২০ সালে, আর ২০২২ সাল থেকে ফারুকের জীবনে আসে সাফল্যের ঝলক। একটি মার্কেটপ্লেসে একটি গিগ থেকে তিনি আয় করেন ১৮ হাজার ডলার। মার্কেটপ্লেসের বাইরে থেকেও কাজ সংগ্রহ করতে শুরু করেন তিনি।

অনেক শিক্ষার্থী তার কাছে ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। প্রথম ব্যাচে ২০ জনকে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখান, যাদের অনেকেই শেখার মধ্যেই বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ পান। ধীরে ধীরে তার কোর্সের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। শেখানো বিষয়গুলো তিনি ইউটিউবে প্রকাশ করেন, দেন লাইফটাইম সাপোর্ট, এমনকি শিক্ষার্থীদের বায়ারের সঙ্গে মিটিং সেট করে দেওয়ার জন্য একটি টিমও গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপার্ট আইটি পার্ক’-এ কাজ করছেন ১৫ জন। কুমিল্লা শহরে অফিস নিয়েছেন অফিস। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

তরুণ ফারুক আজ শত শত ফ্রিল্যান্সারের প্রেরণার উৎস। কিন্তু তার প্রকৃত স্বপ্ন আরও বড়জ্বা লাখো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তার বিশ্বাস, পরিশ্রম আর একাগ্রতা থাকলে ইউটিউবের ক্লাসরুম থেকেই তৈরি হতে পারে বিশ্বজয়ী যোদ্ধা।

লেখক : ফিচার রাইটার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত