খেলার মাইকিং ঘিরে সংঘর্ষ আহত দেড় শতাধিক

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর মুনসুরাবাদ বাজারে প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ হয়।  এক পর্যায়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হয়। তবে গতকাল শনিবার সকাল ৭টা থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় চার গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দুপুর ১২টার দিকে সেনা, পুলিশ এবং র‌্যাবের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, গ্রামবাসীসহ কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সাতজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা গ্রাম, সিংগারডাক গ্রাম ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার সূত্র ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর টানা আড়াই ঘণ্টা মুনসুরাবাদ বাজারে সংঘর্ষ হয়। রাত হয়ে যাওয়ায় পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় সংঘর্ষ বন্ধ হলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন চার গ্রামের মানুষ। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একটানা সংঘর্ষের একপর্যায়ে র‌্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর সঙ্গে পাশের তিন গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে খাপুরা গ্রাম, সিংগারডাক গ্রাম ও মাঝিকান্দা গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ওপর থেকেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষকারীরা দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা এবং ভাঙচুর চালায়। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, ‘সংঘর্ষের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নগরকান্দায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০ : এদিকে গতকাল শনিবার বিকেলে জেলার নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, নগরকান্দ উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রামের মোল্লা সমর্থক ও পাশের গোয়ালদী গ্রামের তালুকদার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এদের মধ্যে মোল্লা গ্রুপের নেতৃত্ব দেন মশিউর মোল্লা, নয়ন মোল্লা ও জিয়ার মোল্লা, অপরদিকে তালুকদার গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সলেমান ও রবি তালুকদার।

গতকাল দুই পক্ষের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এর পর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ব্যাপারে নগরকান্দা থানার ওসি রাসূল সামদানী আজাদ জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত