বগুড়ায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ নারীকে হত্যা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৪ এএম

বগুড়ার শিবগঞ্জে মাত্র সাড়ে ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নে শাহানাজ বেগম এবং গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নে মোমেনা বেগম নামে দুই নারী হত্যার ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন শাহানাজ বেগম (৭০)। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী।

এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা শাহানাজ বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

নিহতের ভাতিজা সুজন জানান, ঘটনার সময় তারা স্থানীয় দাড়িদহ বাজারে ছিলেন। বাড়িতে লোক ঢোকার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন শাহানাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর গ্রামে মোমেনা বেগম (৬৮) নামে আরও এক নারী নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের বাবু সরকারের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, জাবারীপুর গ্রামের শেফালী বেগমের পরিবারের সঙ্গে তার ননদ জোলেখা ও বেলাল হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে গতকাল রবিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে মোমেনা বেগম এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের ধাক্কা ও আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘দুটি খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শাহানাজ বেগম হত্যাকা-ের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে জাবারীপুরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দুটি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে মো. সেলিম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সেলিম গৌরীপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৯টায় গৌরীপুর এলাকায় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের দুটি গ্রুপের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম কিশোরদের থামাতে এগিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। তাদের লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর আহত হয়ে সেলিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে মো. রাজু (১৬) নামের এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মারামারি থামাতে গিয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় রাজু নামের এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত