বরগুনার তালতলী উপজেলার ঝাড়াখালী নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনশেডের ছাউনি সাম্প্রতিক কালবৈশাখীতে উড়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে ১৫৪ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম।
জানা যায়, তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে ঝাড়াখালী আলহাজ নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩১ বছরেও কোনো পাকা ভবন পায়নি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে ১২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া টিনশেড ঘরটিই ছিল একমাত্র পাঠদানের স্থান। সেটি বিধ্বস্ত হওয়ায় বর্তমানে কোনো শ্রেণিকক্ষ অবশিষ্ট নেই। এতে শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কখনো গাছের নিচে, আবার কখনো ভেঙে যাওয়া টিনশেড ঘরের অবশিষ্ট কাঠামোর পাশে বসে পাঠ গ্রহণ করছে। এতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
স্থানীয়রা জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টির দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সফিউল্লাহ বলেন, কালবৈশাখীতে বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় পুরো প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলমুখী রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ জানান, বিদ্যালয়টি বর্তমানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া পাঠদান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
